কাশ্মীরকে ‘ভারতের অংশ’ বললেন সার্জিও গর, মার্কিন কূটনীতিককে তলব পাকিস্তানের

সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ (বামে) ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (ডানে)।
ইসলামাবাদে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে বুধবার ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানিয়েছে পাকিস্তান। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এ পদক্ষেপ নেয় ইসলামাবাদ।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বুধবার ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে এ মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন ও সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার গোর দুই দিনের সফরে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর এবং কেন্দ্রশাসিত লাদাখ অঞ্চলে রয়েছেন।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের গোর বলেছেন, ‘কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর একটি জায়গা।’
১৯৪৭ সালে ব্রিটেন দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের ঔপনিবেশিক ভূখণ্ড ভাগ করে দেওয়ার পর স্বাধীনতা লাভ করে ভারত ও পাকিস্তান। সেই সময় থেকেই কাশ্মীর নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি রয়েছে দুই দেশের।
গোরের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে এবং গোরের ‘তথ্যগতভাবে ভুল মন্তব্য’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ সময় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, জম্মু ও কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি প্রাসঙ্গিক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’
পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত বছর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে স্বল্পস্থায়ী সংঘাত হয়েছিল। কাশ্মীরের পহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ওই সংঘাত শুরু হয়। এ হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল নয়াদিল্লি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও গোরের এ মন্তব্য এসেছে। ভারত ও পাকিস্তানের ওই সংঘাত থামাতে তিনি হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যদিও নয়াদিল্লি তা প্রত্যাখ্যান করে। তবে ইসলামাবাদ স্বল্পস্থায়ী ওই সংঘাতের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকার প্রশংসা করে এবং গত বছর তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করে।
এর পাল্টা হিসেবে ট্রাম্প মুনিরকে ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে অভিহিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানেও ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর ওই যুদ্ধ শুরু হয়।
সূত্র: আরটি







