সৌদি বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি হুতিদের

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতি সমর্থকদের র্যালি। ছবি: রয়টার্স
সৌদি বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার না করার জন্য সমস্ত এয়ারলাইন কোম্পানি ও যাত্রীদের প্রতি নতুন এক সতর্কবার্তা জারি করেছে ইয়েমেনের হুতিরা।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী এক্স-এ দেওয়া বার্তায় বলেছেন, ‘ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী সমস্ত বিমান ও নেভিগেশন কোম্পানি, বিশেষজ্ঞ, কর্মী, শ্রমিক এবং যাত্রীদের সৌদি বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার বিষয়ে আবারও সতর্ক করছে।’
রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একদিন পর আজ রবিবার দেশটির বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার না করার জন্য এই সতর্কবার্তা দিল গোষ্ঠীটি। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
সতর্কবার্তার কারণ হিসেবে সারী জানিয়েছেন, ‘বিমানবন্দর ও আকাশসীমা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এগুলো আমাদের বাহিনীর অভিযানের একটি যুদ্ধক্ষেত্র।’ তবে পবিত্রতম দুই নগরী মক্কা ও মদিনার স্থাপনাগুলো এই অভিযাানের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উত্তর ইয়েমেনের সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীটি সবাইকে এই সতর্কবার্তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এসব ঠেকানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টার দায় সৌদি আরবকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
শনিবারের হামলার পর কোনো থাকা রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরটিতে সামরিক স্থাপনা নেই। এয়ার ট্রাফিক মনিটর ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, বিমানবন্দর বন্ধ থাকার এই সময়সীমা রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
যদিও হুতিরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে সৌদি কর্মকর্তারা শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে সংঘটিত এই হামলার জন্য হুতিদেরই দায়ী করেছেন।
এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর থেকে তেহরানের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর অন্যতম এই বিদ্রোহীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।
যদিও ২০২২ সালের একটি যুদ্ধবিরতি এই সংঘাতকে স্থবির করে দিয়েছিল, তবে কোনো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে লড়াই পুনরায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে তীব্র মানবিক সংকট আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, তিনি এই হামলার পর সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলা করলে ওয়াশিংটন তাতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে বলেও জানান তিনি।
রবিবার ইউরোপীয় নেতারা রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লিয়েন সৌদি আরবের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সংহতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের প্রক্সিগুলোর এই হামলা অঞ্চলটিকে সহিংসতার এক ঘূর্ণিপাকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পরিবহন ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলো অস্থিতিশীল হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি ও ডয়চে ভেলে





