Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা সামাদ
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় মধ্যপ্রাচ্য

ফাঁসির মঞ্চ দেখিয়ে উল্লাস বেন-গভিরের, নিশানায় ফিলিস্তিনি বন্দিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
agamir somoy
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫৯
ফাঁসির মঞ্চ দেখিয়ে উল্লাস বেন-গভিরের, নিশানায় ফিলিস্তিনি বন্দিরা

ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির

মাটিতে তখনও শুধু ভিত তৈরি হচ্ছে। সামনে দাঁড়িয়ে আঙুল তুলে জায়গাটি দেখালেন ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। জানালেন, এখানেই তৈরি হবে ফাঁসির মঞ্চ। আর শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাই নয়, ফাঁসি দেখতে নিহতদের পরিবারের জন্য রাখা হবে আলাদা ‘দর্শক কক্ষ’। ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্মীয়মাণ সেই স্থানের ভিডিও নিজেই প্রকাশ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বেন-গভির। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এমন ব্যবস্থা মৃত্যুদণ্ডকে শাস্তি থেকে এক ধরনের প্রকাশ্য প্রতিহিংসার প্রদর্শনীতে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভিডিওটি মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। কোথায় ফাঁসির স্থাপনাটি তৈরি হচ্ছে, তা জানাননি বেন-গভির; ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের ছবিতে ঘেরা একটি এলাকায় ভারী নির্মাণযন্ত্র দেখা গেছে, যা একটি কারাগারের কাছাকাছি বলে খবর। ভিডিওতে বেন-গভিরের ঘোষণা, “এখানেই সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।” তার দাবি, কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিস্থিতি কঠোর করা এবং মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস করানোর মতো প্রতিশ্রুতির পর এ বার ফাঁসির ব্যবস্থাও বাস্তব রূপ পাচ্ছে। কবে নির্মাণ শেষ হবে, তা অবশ্য তিনি জানাননি।

এই উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে চলতি বছরের ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া বহুল বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইনে। ১২০ সদস্যের নেসেটে ৬২-৪৮ ভোটে আইনটি পাস হয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে প্রাণঘাতী ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে ফাঁসিকে সাধারণ বা প্রাথমিক সাজা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কেবল ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবে। চূড়ান্ত রায়ের ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকরের বিধানও রয়েছে; সামরিক আদালতের সাজায় ক্ষমা বা দণ্ড লাঘবের সুযোগ রাখা হয়নি।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক আইনটির প্রয়োগে বৈষম্য নিয়ে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের যে সামরিক বিচারব্যবস্থায় ফিলিস্তিনিদের বিচার হয়, সেখানে বসবাসকারী ইসরায়েলি নাগরিক বা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা একই বিধানের আওতায় পড়েন না। ইসরায়েলের বেসামরিক আদালতের জন্যও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তবে সেখানে এমন হত্যাকাণ্ডে তা প্রযোজ্য যার উদ্দেশ্য হিসেবে ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার’ প্রমাণ করতে হবে। সমালোচকদের মতে, ফলে একই ধরনের প্রাণঘাতী অপরাধে একজন ফিলিস্তিনির মৃত্যুদণ্ড হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও একজন ইহুদি ইসরায়েলির ক্ষেত্রে আইনটির প্রয়োগ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইনটিকে সরাসরি বৈষম্যমূলক বলে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বহু মৌলিক আইনি সুরক্ষা দুর্বল করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচারের অধিকার মারাত্মক ভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের বিচার করা সামরিক আদালতগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৯৯ শতাংশেরও বেশি। সংস্থাটির বক্তব্য, মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের তুলনায় অপরাধ ঠেকাতে বেশি কার্যকর, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণও নেই।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও আইনটির তীব্র নিন্দা করেছে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের দপ্তর এর আগে বলেছিল, এই আইন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং ভয় দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার দাবি থেকে সরানো যাবে না। ইসরায়েলের শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশও একে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের উদাহরণ বলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ইসরায়েলের অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস আইনটির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে।

বেন-গভিরের দল অবশ্য বলেছে, প্রাণঘাতী হামলা ও অপহরণ ঠেকাতে মৃত্যুদণ্ড ‘প্রতিরোধক’ হিসেবে কাজ করবে। বন্দি বিনিময়ের জন্য ইসরায়েলিদের অপহরণের প্রবণতাও এতে কমবে বলে তাদের দাবি। আইন পাসের সময় বেন-গভিরও বলেছিলেন, যারা প্রাণ নেয় তাদের মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে হবে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও আইনটির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ভোটের আগেই সতর্ক করেছিলেন, আইনটির চরিত্র কার্যত ফিলিস্তিনিদের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং তা ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

ইসরায়েলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান একেবারেই নতুন নয়, তবে এর প্রয়োগ অত্যন্ত বিরল। ১৯৬২ সালে নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখমানকে ফাঁসি দেওয়ার পর আর কোনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি দেশটি। পশ্চিম তীরের সামরিক আদালতেরও এর আগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, কিন্তু সেটি ব্যবহার করা হয়নি। নতুন আইন সেই পরিস্থিতিই আমূল পাল্টে দিয়েছে।

বেন-গভিরকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই


৫০ বছরের বেন-গভির ইসরায়েলি রাজনীতির সবচেয়ে বিতর্কিত অতি-ডানপন্থী নেতাদের একজন। অতীতে আরবদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী উসকানি এবং নিষিদ্ধ কাচ আন্দোলনকে সমর্থনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। মৃত্যুদণ্ড আইন পাসের প্রচারে গলায় ফাঁসের দড়ির আকৃতির ব্যাজও পরেছিলেন। গত মে মাসে নিজের ৫০তম জন্মদিনে তাঁকে ফাঁসের দড়ির ছবিসংবলিত কেক উপহার দেওয়ার ছবিও প্রকাশ্যে আসে।

মাত্র কয়েক দিন আগেই গাজা নিয়ে তার আর একটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক ক্ষোভ তৈরি করে। এক পডকাস্টে বেন-গভির বলেছিলেন, গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে লক্ষ্য করে হত্যা করা উচিত; শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করা ব্যক্তিদের মধ্যেই সেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওই বক্তব্যকে ‘ভয়াবহ’, ‘মানবতাবিরোধী ভাষা’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে নিন্দা করেন। ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ কর্মকর্তারাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

বেন-গভিরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপও আগে থেকেই রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ব্রিটেন তাঁর সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের পদে থাকার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফ্রান্সও তাঁকে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইসরায়েল অবশ্য এসব পদক্ষেপের নিন্দা করেছে।

ফাঁসির স্থাপনা তৈরির খবরটি এমন সময় সামনে এল, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ছে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে বিতর্কিত ই-১ বসতি প্রকল্পে নতুন বাড়ি তৈরির দরপত্র নিয়েও ব্রিটেনসহ একাধিক দেশ প্রতিবাদ জানিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড প্রকল্পটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করেছেন। অধিকাংশ দেশ ও জাতিসংঘ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করে; ইসরায়েল সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

এ বার সেই বিতর্কের মধ্যেই ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ফাঁসির মঞ্চ এবং তা দেখার ‘দর্শক কক্ষ’ নির্মাণের দৃশ্য নিজে সামনে আনলেন ইসরায়েলের একজন মন্ত্রী। মৃত্যুদণ্ড নিয়ে নৈতিক ও আইনি বিতর্ক বহু পুরনো। কিন্তু কে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়বেন আর কে পড়বেন না, সেই প্রশ্নে যখন একই ভূখণ্ডে দু’টি আলাদা বিচারব্যবস্থা কাজ করছে, তখন বেন-গভিরের এই ভিডিও শুধু একটি নির্মাণস্থলের ছবি নয়; ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলি রাষ্ট্রব্যবস্থার চরম বৈষম্য নিয়ে চলা আন্তর্জাতিক বিতর্ককেই আরও তীব্র করে তুলেছে।

ইতামার বেন গাভিরইসরায়েলফিলিস্তিনি বন্দি
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise