ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে পাওয়ার লড়াই

সংগৃহীত ছবি
গতকাল শুক্রবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। ঐ বিমানের নিখোঁজ এক ক্রু'কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যে পেন্টাগন দাবি করেছে, ঐ বিমানের অন্য আরেকজন ক্রুকে তারা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে বিবিসি জানায়, ভূপাতিত প্রথম বিমানটির উদ্ধার অভিযানের সময় হরমুজ প্রণালির কাছে এ-১০ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে বিমানটির পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরান পারস্য উপসাগরের ওপর আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়েছিল। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীও এখন বিমানটির ক্রু'কে খুঁজে পেতে তল্লাশি চালাচ্ছে ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দক্ষিণ ইরানের আকাশে একটি মার্কিন বিমানকে দুটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে উড়তে দেখা যাচ্ছিল। ওই সময় ভূপাতিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছিল।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের নিশ্চিত করা একটি ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওটি খুজেস্তান প্রদেশে কারুন নদীর ওপর একটি সেতুর কাছাকাছি একটি স্থানে ধারণ করা হয়েছে।
এই ভিডিও সাম্প্রতিক কি না এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে পরিবর্তন করার কোনো চিহ্ন আছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে। এই অভিযানের দৃশ্য বলে দাবি করা ফুটেজগুলো যাচাই অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে বিবিসি ভেরিফাই।
ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই সাবেক কমান্ডার একথা বলেছেন।
তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।
মাটিতে নামার পর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের লক্ষ্য থাকে নিখোঁজ ক্রু সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা। একইসঙ্গে প্রয়োজন হলে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, শত্রুকে এড়িয়ে যাওয়া বা প্রতিরোধ করা এবং এমন একটি স্থানে পৌঁছানো যেখান থেকে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
কমান্ডার বলেন, এই প্যারারেস্কিউ সদস্যদের বিমানবাহিনীর 'সুইস আর্মি নাইফ' বলা হয়। তাদের কাজকে 'ভয়াবহ এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক' বলা হলেও কম বলা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে তেহরান ও সিরিয়াসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অব্যাহতভাবে হামলার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ইস্পাত শিল্পের ৭০ ভাগ উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ৩৬৫ জন মার্কিন সেনার আহত হবার খবর নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।
এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৪৭, নৌবাহিনীর ৬৩, মেরিন ১৯ ও বিমান বাহিনীর ৩৬ জন সদস্য আছেন।
এ ছাড়া এবারের এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

