তেহরান পাহারায় ১০০ ড্রোন ২১ হেলিকপ্টার
- খামেনির জানাজা ঘিরে শাটডাউনে গেছে তেহরান। রাস্তার মোড়ে মোড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। বন্ধ থাকবে বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ সব রাস্তা। প্রাইভেট যানবাহন চলাচলেও আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা

তেহরানের এক র্যালীতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি হাতে এক নারী। ছবি: রয়টার্স
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার জন্য প্রস্তুত ইরান। জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত বড় আকারের এ জানাজা শুরু হবে স্থানীয় সময় আজ শনিবার ভোর ৬টায়। রাজধানীর বিশাল ইমাম খোমেনি মোসাল্লা মসজিদ চত্বরে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মে রাখা হবে খামেনির কফিন। অনুমান করা হচ্ছে, তার জানাজায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২ কোটি ছাড়াবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম চলবে টানা কয়েক দিন। এদিকে শোকাহত মানুষের ঢল সামলানো ও দুর্ঘটনা এড়াতে এরই মধ্যে সামরিক পর্যায়ের প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান কর্তৃপক্ষ। যেকোনো সময় জরুরি সহায়তার জন্য নিয়োজিত থাকবে ২ হাজার ৫০০টি অ্যাম্বুলেন্স। প্রতিটি সড়কের পর্যবেক্ষণে থাকবে ২১টি হেলিকপ্টার আর ১০০টি ড্রোন। হাই-অ্যালার্টে থাকবে ২৪টিরও বেশি হাসপাতাল। জরুরি চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্র মজুদ রেখেছে প্রায় ৫ লাখ লিটার আইভি ফ্লুইড।
তেহরান জুড়ে শাটডাউন: খামেনির জানাজা কেন্দ্র করে শাটডাউনে গেছে দেশটির রাজধানী তেহরান। রাস্তার মোড়ে মোড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। বন্ধ থাকবে বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ সব রাস্তা। প্রাইভেট যানবাহন চলাচলেও আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তেহরানের আশপাশের এলাকায় গাড়ি রাখার জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে ৭০০টি অস্থায়ী পার্কিং জোন। আজ শনিবার এ অঞ্চলের তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অত্যধিক গরমের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ৬ হাজারেরও বেশি ওভারহেড স্প্রিংকলার স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। জানাজায় যোগ দেওয়া বিপুলসংখ্যক শোকার্তের খাবার প্রদানে ৫ কোটি রুটি তৈরি করা হচ্ছে। এ কাজে সহায়তা করছে শহর জুড়ে মোতায়েন করা ১৬টি ভ্রাম্যমাণ বেকারি।
জরুরি সহায়তা এবং আশ্রয়কেন্দ্র: মানুষের বিশাল ঢলকে আশ্রয় দিতে তেহরানের প্রতিটি হোটেল রুম এখন বুকড। কর্তৃপক্ষ বাকিদের আশ্রয় দিতে ২০ হাজারের বেশি স্কুলকক্ষ, খেলার কেন্দ্র, মসজিদ এবং পার্ককে কিছুদিনের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবর্তন করেছে। যেকোনো সময় জরুরি সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল ও ওষুধ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিদেশি নেতাদের শ্রদ্ধা: তেহরানের প্রধান ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় সমাবেশ স্থল গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিনে গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শুধু বিশ্বনেতাদের জন্যই ছিল এই আয়োজন। পর্যায়ক্রমে তার জানাজায় অনেক বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেন। গত বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানটিকে শুধু ইরানি জাতির জন্যই নয়, বরং এ অঞ্চলের জনগণ, মুসলিম সম্প্রদায় এবং বিশ্ব জুড়ে সব স্বাধীন জাতির জন্যও ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি নির্দেশনাবিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি বুধবার জানিয়েছেন, খামেনির জানাজা প্রচার করবেন প্রায় ৬০০ সাংবাদিক এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী।
যে কারণে জানাজায় দেরি: খামেনি শুধু ইরানের সর্বোচ্চ নেতাই ছিলেন না। ইরাক, পাকিস্তান, লেবানন এবং অন্য অনেক এশীয় রাষ্ট্রেও একজন প্রভাবশালী শিয়া মুসলিম ধর্মগুরুও ছিলেন তিনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। প্রায় চার মাস পর তার জানাজার আয়োজন ইরানে চলমান অস্থিরতাকেই ইঙ্গিত করে। তার মৃত্যুর পর গুঞ্জন আসে খামেনির মরদেহ সাময়িকভাবে সমাহিত করা হয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন— জানাজার বিলম্বের কারণ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের তীব্র ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি।
দেশটির কর্মকর্তারা আরও বললেন, ইসলামিক দিকনির্দেশনা মেনে খামেনির মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ দমন বিশেষজ্ঞ ওমার জানিয়েছেন, ‘শিয়া আইন অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে মৃতদেহ দাফনে বিলম্ব করা এবং হিমাগারে সংরক্ষণ করার অনুমতি রয়েছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ধর্মীয় ছাড়পত্র পাওয়াও সহজ।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির সঙ্গে প্রাণ হারান তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও। গতকাল ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় রাখা হয়েছে ইরানের পতাকা আঁকা পাঁচটি কফিন। খামেনির মরদেহের সঙ্গে বাকি কফিনে রয়েছে খামেনির জামাতা মেসবাহ-ওল-হোদা বাগেরি, বড় মেয়ে সাইয়েদেহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরার মৃতদেহ।




