সিরিয়ায় শারা সরকারে বড় রদবদল, পদ হারালেন ভাইও

আহমেদ আল-শারা
সরকারে একাধিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধানের পদ থেকে তার ভাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা।
আল-শারা সাবেক হোমস গভর্নর আবদুল রহমান বদরেদ্দিন আল-আআমাকে প্রেসিডেন্সির মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এর আগে এই পদে ছিলেন আল-শারার ভাই মাহের, যার নিয়োগকে ঘিরে উঠেছিল স্বজনপ্রীতির অভিযোগ।
শনিবারের এই রদবদল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর প্রথম এবং সিরিয়ার সাংবিধানিক ঘোষণায় নির্ধারিত পাঁচ বছরের অন্তর্বর্তী সময়ের প্রায় দেড় বছর পর এলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের ডিক্রির মাধ্যমে খালেদ জাররুরকে তথ্য মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি হামজা মুস্তাফার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। হামজা মুস্তাফাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আসাদ আমলের অভিজাত গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়িক ধনকুবেরদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির প্রধান বাসেল সুইদানকে করা হয়েছে কৃষিমন্ত্রী।
আল-শারা হোমস, কুনেইত্রা ও দেইর আজ-জোর প্রদেশের গভর্নরদেরও পরিবর্তন করেছেন। পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আজ-জোর প্রদেশেই সিরিয়ার অধিকাংশ তেলক্ষেত্র অবস্থিত।
এই পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি। তবে আলজাজিরার সাংবাদিক রেসুল সারদার আতাস এর আগে জানিয়েছিলেন, গত বছরের মার্চে আল-শারা নতুন সরকার ঘোষণার পর তার কর্মকর্তাবাছাই নিয়ে হয়েছিল সমালোচনা।
আতাস বলেছেন, ‘মানুষ প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছিলেন যে সব গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমালোচকদের ভাষায় দুর্বল শাসনব্যবস্থার কারণে বিক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটিও আল-শারার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আরেকটি কারণ।
সরকার পুনর্গঠনের পাশাপাশি গত মাস থেকে আল-শারার সরকার আসাদ আমলের কর্মকর্তাদের বিচার কার্যক্রমও শুরু করেছে। আনুমানিক পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হওয়া সিরিয়ার ১৪ বছরের যুদ্ধে প্রতিশ্রুত অন্তর্বর্তী বিচার প্রক্রিয়া শুরুতে বিলম্ব হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার।
দামেস্কে দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবের বিচার কার্যক্রম শুরু হয় ২৬ এপ্রিল।
তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পরবর্তীতে যুদ্ধের সূচনা করে। সানার মতে, ‘সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ’-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আসাদের চাচাতো ভাই নাজিবই ছিলেন বিচার-পূর্ব প্রস্তুতি অধিবেশনে আদালতে উপস্থিত একমাত্র আসামি। মামলার কার্যক্রম চলবে এ মাসেও।
অনুপস্থিত অবস্থায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের, যিনি সিরীয় সেনাবাহিনীর চতুর্থ সাঁজোয়া ডিভিশনের সাবেক কমান্ডার ছিলেন। অনুপস্থিত অবস্থায় অভিযুক্ত অন্য সাবেক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের অভিযোগ।




