কাতারে গ্যাস বিস্ফোরণে ১৩ নিহতের সবাই ভারত-পাকিস্তানের নাগরিক

কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরণের ভিডিও ফুটেজ। ছবি : সংগৃহীত
কাতারের বৃহত্তম গ্যাস স্থাপনায় বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে নিহত সকলেই ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাআবি।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার রাতে রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে শহরের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে একটি ‘যান্ত্রিক দুর্ঘটনা’ ঘটেছে এবং এই বিস্ফোরণের কারণে শহরের আকাশ কমলা রঙে ছেয়ে গেছে।
কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাআবি বলেছেন, এই বিস্ফোরণ দেশের রপ্তানিকে প্রভাবিত করবে না। এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
রাস লাফান বন্দর বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম পোতাশ্রয় এবং এখানে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে এটি ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
রবিবারের বিস্ফোরণে জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং মধ্য দোহাজুড়ে তা অনুভূত হয়। যা রাস লাফান থেকে ৭০ কিলোমিটারেরও (৪৩ মাইল) বেশি দূরে বসবাসকারী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
শেরিদা আল-কাআবি আরও বলেছেন, বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে ঘটা বিস্ফোরণের কারণ নির্ণয়ে সরকার কাজ করছে এবং এতে কোনো পরিবেশগত ঝুঁকি নেই।
তবে, জ্বালানি মন্ত্রী বলেছেন, গ্যাস সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কখন পুনরায় শুরু হবে তা নির্ধারণ করা কঠিন হবে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তার ভাষ্য, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে প্ল্যান্টের উৎপাদন ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল, মাত্র দুই দিন আগে তা আবার চালু করা হয়।
দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা কাতারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং নিহত বা আহতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।
এরা আগে, স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যাবেলায় বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে বিস্ফোরণটি ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অবিলম্বে জরুরি প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করা হয়েছিল, যা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মার্চ মাসে স্থগিত হওয়া কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সময় এই বিস্ফোরণটি ঘটে।
কাতার এনার্জি জানিয়েছে, স্থাপনাটির প্রয়োজনীয় মেরামতের কারণে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর এলএনজি উৎপাদন ১২.৮ মিলিয়ন টন কমে যাবে।
সূত্র : বিবিসি




