আইনসভার ভোট স্থগিত, ফিলিস্তিনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস— রয়টার্স
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় আইনসভা নির্বাচন বাতিল করেছেন। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতির অবনতির কারণে শনিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে এ তথ্য।
আব্বাসের জারি করা ডিক্রিতে নভেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ‘ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণে সৃষ্ট বাধার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’ আয়োজনের জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ডিক্রিতে জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নভেম্বরের শেষদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আগে থেকেই বড় ধরনের সংশয় ছিল। ২০০৫-০৬ সালের পর ফিলিস্তিনে আর কোনো আইনসভা বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়নি। ওই সময়ের পর আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আব্বাসের অনুগতদের সেখান থেকে উৎখাত করে।
ডিক্রিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সামরিক হামলা, বসতি সম্প্রসারণ, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে আগের নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন আয়োজন ও প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের প্রাপ্য করের রাজস্ব ইসরায়েলের আটকে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজার ক্ষেত্রে ডিক্রিতে ‘ব্যতিক্রমী নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি’, ইসরায়েলি বাহিনীর পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া, পুনর্গঠনের অগ্রগতি না থাকা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের বিধিনিষেধও প্রস্তুতির কাজকে জটিল করে তুলেছে বলে ডিক্রিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী কমিটির একটি প্রস্তাব এবং ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের ঐক্য জোরদার করা এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় সংলাপের জন্য সময় দিতেও এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



