ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প
মনে হচ্ছিল, মাথার ওপর ভেঙে পড়ছে ভবন

সংগৃহীত ছবি
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭.৫।
ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের সময় কারাকাসের অভিজাত এলাকা পালোস গ্রান্দেসের সপ্তমতলার একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার। এলাকাটি এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানের সেই আতঙ্কজনক মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, তীব্র কম্পনে একপর্যায়ে তার মনে হচ্ছিল পুরো ভবনটি হয়তো তার ওপরেই ভেঙে পড়বে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নিকোল কোলস্টার বলেছেন, ‘হঠাৎ করেই আমার অ্যাপার্টমেন্টটি তীব্রভাবে কাঁপতে শুরু করে। জানালার কাচগুলো কাঁপছিল। নিজেকে বাঁচাতে আমি কোনোমতে মেইন দরজা আর একটি পাথরের দেয়ালের মাঝখানে আশ্রয় নিই।’
‘আমার জীবনে অনুভব করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল এটি’, যোগ করেন নিকোল কোলস্টার।
ফ্ল্যাটে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর প্রতিবেশীদের চিৎকার শুনে তিনি ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। কোলস্টার জানান, আফটারশকের আশঙ্কায় এক ঘণ্টা পরও মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদছেন এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
কোলস্টার জানান, অনেকেই তাদের গৃহপালিত পোষা প্রাণীগুলোকে ভবন থেকে বের করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। আবার অনেকে আফটারশকের ভয়ে দ্রুত বেসমেন্ট থেকে গাড়ি বের করার চেষ্টা করছিলেন।
কাছাকাছি একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছিল বলেও জানান সাংবাদিক নিকোল।
পালোস গ্রান্দেসের আরেক বাসিন্দা মারিয়া এলিস জানান, ভূমিকম্পে তার অ্যাপার্টমেন্টের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে মারিয়া এলিস বলেছেন, ‘বাইরে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো ভেঙে পড়েছে। আমাদের এলাকায় কোনো বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলের নেটওয়ার্কও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে।’
ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৬৭ সালে কারাকাসে একটি ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। যাতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। সে সময়ও পালোস গ্রান্দেস এবং উচ্চবিত্তদের এলাকা আলতামিরার বহু ভবন ধ্বংস হয়েছিল।
কারাকাসের পূর্বাঞ্চলের ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা করো মার্টিনেজ বলেছেন, ভীষণ জোরে একটি শব্দ হয়েছিল। ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র, এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরের জগগুলোও আছড়ে পড়েছিল। আমি জীবনে কখনো এমন কিছুর মুখোমুখি হইনি।
সূত্র : বিবিসি






