ঝুঁকি আকাশছোঁয়া, তবু ভেনেজুয়েলার তেলের টানে ছুটছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা

ছবি: রয়টার্স
কয়েক মাস আগেও যে সম্ভাবনাকে একেবারে অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল, এখন সেটিই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে এবার যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে জড়ো হয়েছেন জ্বালানি খাতের শতাধিক শীর্ষ বিনিয়োগকারী। এ ছাড়া এই তালিকায় রয়েছে তেল কোম্পানি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও। তাদের বার্তা স্পষ্ট- ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের এটাই একদম উপযুক্ত সময়।
বিনিয়োগ সংস্থা অ্যাপারতুরা এনার্জির প্রধান নির্বাহী গ্রেগ গিলবার্ট বলেছেন, দীর্ঘদিন অবহেলা এবং অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকতে থাকা দেশ ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে এখন বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং নতুন প্রশাসনের সংস্কার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকার রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা পিডিভিএসএয়ের বাধ্যতামূলক সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানার নিয়ম শিথিল করে দিয়েছে। ফলে এখন বিদেশি সংস্থাগুলো সরাসরি তেলক্ষেত্র পরিচালনা, অধিক শেয়ার ধারণ এবং মুনাফার বড় অংশ নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন সংস্থাগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলার তেল কেনা ও রপ্তানি করা সহজ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। আর বর্তমানে রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য হলো যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া রয়েছে ভারত, স্পেন, নেদারল্যান্ডসসহ আরও কয়েকটি দেশ ভেনেজুয়েলার তেলের উল্লেখযোগ্য ক্রেতা।
যদিও এই সম্ভাবনার পাশাপাশি বিপুল ঝুঁকির কথাও স্বীকার করছেন বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা। বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট এবং অব্যবস্থাপনায় ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পের অবকাঠামো একেবারে ভেঙে পড়েছে। তার ওপর সাম্প্রতিক সময়ের ভূমিকম্প দেশের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও বড় উদ্বেগের কারণ। বর্তমান সরকার বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও ভবিষ্যতে যদি ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, তবে সেই সঙ্গে নীতিও বদলে যেতে পারে। মার্কিন জ্বালানি জায়ান্ট এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী ড্যারেন উডস জানুয়ারিতেই মন্তব্য করেছিলেন, বর্তমান অবস্থায় ভেনেজুয়ায় বিনিয়োগ কার্যত অযোগ্য ও ঝুঁকির।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রকল্প থেকে বাস্তব ফল পেতে কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে ৫০০ থেকে ১,০০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। তবু বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলভাণ্ডারের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করার সুযোগ ও সাহস নেই। তাদের মতে, ঝুঁকি যত বড়ই হোক না কেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত আবারও বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
ভাষান্তর : রুবাইয়া জেসমিন




