জি৭ সম্মেলনে পুতিনকে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন- রয়টার্স
চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য জি৭ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিনকে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে তার অভিযোগ, রাশিয়া এখনো আলোচনায় প্রস্তুত নয় এবং প্রস্তাবেরও স্পষ্ট কোনো জবাব দেয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার বলেছেন, চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য তিনি এ সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিনকে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে রুশ নেতা আলোচনায় প্রস্তুত নন।
রাশিয়ার রাতভর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক মঠে দাঁড়িয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, সোমবার পরে এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইংরেজিতে সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘আমরা বার্তা দিয়েছিলাম যে জি৭ চলাকালে আমরা পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত। কারণ সেখানে ট্রাম্প আছেন, ম্যাখোঁ আছেন। অর্থাৎ ইউরোপ ও আমেরিকা থাকবে। আমার মনে হয়, একসঙ্গে বৈঠকের জন্য এটি খুব ভালো সুযোগ।’
তিনি বললেন, ‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র এতে সম্মত ছিল। কিন্তু রাশিয়া আবারও দেখাল যে তারা আলোচনায় প্রস্তুত নয়।’
ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা জানান, জেলেনস্কি আলোচনার এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁকে জানিয়েছিলেন। ইউক্রেন সরাসরি রুশ পক্ষকেও আমন্ত্রণ পৌঁছে দেয়, তবে সেখান থেকে স্পষ্ট কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
চলতি মাসে পুতিনের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। জবাবে পুতিন প্রকাশ্যে বলেছেন, এমন বৈঠকের কোনো প্রয়োজন তিনি দেখেন না এবং ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য হুমকি নয়।
সোমবার রাতে কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রাশিয়ার হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ‘নির্লজ্জ আচরণ’ করেছেন রুশ নেতা।
তিনি বলেছেন, জি৭ বৈঠকে তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে রুশ হামলা ঠেকাতে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
জেলেনস্কি বলছিলেন, ‘ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও দেখা হবে। কীভাবে পুতিনকে এই যুদ্ধ বন্ধে চাপ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা তার সঙ্গে কথা বলব।’




