পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ‘অপরিবর্তনীয়’

কিম জং উন
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া আবারও স্পষ্ট করেছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান ‘অপরিবর্তনীয়’। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে তারা।
উত্তর কোরিয়া রবিবার বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান ‘অপরিবর্তনীয়’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিয়ংইয়ং বারবার বলেছে, তারা কখনোই তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ত্যাগ করবে না। দেশটির দাবি, এটি প্রতিরোধ সক্ষমতার জন্য অপরিহার্য। চলতি মাসের শুরুতে এই নীতিকে ‘পিছু হটার কোনো পথ নেই’ বলে বর্ণনা করেছিলেন দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং।
শুক্রবার টোকিওতে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার এই বক্তব্য আসে। সিউলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই বৈঠকে মিত্র দেশগুলো ‘কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে’ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এক মুখপাত্র বললেন, ‘উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুগত শক্তিগুলোর অর্থহীন বক্তব্য কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে এর অপরিবর্তনীয় অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারবে না।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলছিলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণ একটি অপরিবর্তনীয়ভাবে চূড়ান্ত হওয়া বিষয়।’
মুখপাত্র আরও বলেছেন, সিউল ও টোকিওর কাছে ওয়াশিংটনের অস্ত্র বিক্রিই পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ। তিনি এটিকে ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যতই আপত্তি তুলুক না কেন, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।’
২০১৯ সালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে। হ্যানয়ে কিম ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল সে বছর।
সম্ভবত সেই ব্যর্থ আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মুখপাত্র বলছিলেন, ‘সময়ের প্রবাহে স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাওয়া নিরস্ত্রীকরণকে আর কেউ ফিরিয়ে আনতে পারবে না।’
সম্প্রতি কিম জং উন পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আতিথ্য দেন। এর আগে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছিলেন চীনা নেতা।
দুই পক্ষের সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠকগুলোতে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।


