ভেনেজুয়েলায় ১০৬ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে যুবককে জীবিত উদ্ধার

৪৩ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযানের পর অ্যারন লেভি কান্তিয়োকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়- এক্স/রয়টার্স
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, ৪৩ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার অভিযানের পর অ্যারন লেভি কান্তিয়োকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয়। উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচারে করে তরুণটিকে নিয়ে যাচ্ছেন—এমন একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন তিনি।
তরুণকে জীবিত উদ্ধার করা হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন।
এদিকে, আরও জীবিত মানুষকে উদ্ধারের আশায় সোমবারও উত্তর ভেনেজুয়েলার ধসে পড়া ভবনগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে যান উদ্ধারকর্মীরা। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
সরকারি হিসাবে, গত বুধবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জন।
তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, শুধু লা গুয়াইরাতেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭৫০টি মরদেহ গ্রহণ ও শনাক্তকরণের কাজ চলছে।
জাতিসংঘের ভেনেজুয়েলা সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রাম্পোলা জানিয়েছেন, অনেক ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ এখনো পুরোপুরি সরানো হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ১০ হাজার মরদেহ রাখার ব্যাগ সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘ।
তিনি বললেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তবে এখনো নিখোঁজ মানুষের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি বলে জানান তিনি।
রাম্পোলা জানান, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পরও রবিবার সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের জন্য আশার সঞ্চার করেছে। দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই জীবিত উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।




