ভারতের মণিপুরে ফের সংঘর্ষে কুকি যুবক নিহত, বাড়িঘরে আগুন

ভারতের মণিপুরে সংঘর্ষে বাড়িঘর জ্বলছে। ছবি / সংগৃহীত
ভারতের মণিপুর রাজ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে সংঘর্ষে কুকি সম্প্রদায়ের এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও চার কুকি যুবক। আগুনে পুড়ে গেছে কুকি সম্প্রদায়ের অন্তত ১৫টি বাড়ি।
শনিবারের এ ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। কেউ সেনা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার নারী ও শিশুসহ অনেককে জঙ্গলে রাত কাটাতে হচ্ছে।
নিহত যুবকের নাম সেখাওহাও হাওকিপ। সংঘর্ষে পাঁচ কুকি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে হাওকিপ মারা গেছেন। বাকি চারজন চিকিৎসাধীন।
তবে কীভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে নাগা ও কুকি সংগঠনগুলো পরস্পরবিরোধী দাবি করেছে।
নাগা ভিলেজ গার্ডের ইস্টার্ন কমান্ডের দাবি, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কামজং জেলা সদরে টাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র কুকি গোষ্ঠী হামলা চালায়। কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা (কেএনএ-বি) এবং চাসাদভিত্তিক ভিলেজ ভলান্টিয়ার্স অব ইস্টার্ন জোনের (ভিভিইজেড) সদস্যরা ওই হামলায় জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
নাগা ভিলেজ গার্ড জানিয়েছে, ঘটনায় তিন টাংখুল নাগা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন নিংচৌয়ের টি চিথুং এবং বুংপা খুলেনের এস মালুং ও এম শিথুং। তাদের কামজং হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার পর তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
চাসাদে মোতায়েন ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনী ১১ আসাম রাইফেলসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছে নাগা ভিলেজ গার্ড। তাদের দাবি, বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীদের সহায়তা করেছেন এবং দুটি সাঁজোয়া ক্যাসপির গাড়িতে কামজংয়ের দিকে এগিয়ে গেছেন। সাধারণ মানুষের বসতিতে গুলি ও স্টান গ্রেনেড ছোড়ার অভিযোগও করেছে সংগঠনটি। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, কাংপোকপির সাদার হিলসভিত্তিক কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (কোটু) পাল্টা দাবি করেছে, চাসাদ গ্রামে সশস্ত্র টাংখুল গোষ্ঠীর হামলা থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ঝুঁকিতে থাকা গ্রামগুলোর নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে কোটু।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসাম রাইফেলস, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং কামজং পুলিশের যৌথ বাহিনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সংঘর্ষ ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন মণিপুরের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন। তিনি বলেছেন, সাধারণ গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত করে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা এবং তাদের সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
কিপগেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখতে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত উত্তেজনায় থাকা মণিপুরে কামজংয়ের এ সংঘর্ষ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং কারা এর জন্য দায়ী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।




