ভারতে মদ নীতির বিরুদ্ধে লাক্ষাদ্বীপের মুসলিমদের বিক্ষোভ

মদ নীতির বিরুদ্ধে লাক্ষাদ্বীপের মুসলিমদের বিক্ষোভ। ছবি : আগামীর সময়
লাক্ষাদ্বীপে নতুন মদ নীতি চালুর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দ্বীপপুঞ্জে মদের ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সমাজের মতামতকে উপেক্ষা করে এমন একটি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা দ্বীপের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
১৯ জুন আগাত্তিতে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয় আগাত্তি মহল জামাত। বিভিন্ন মসজিদের কাজী, ধর্মীয় নেতা, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, যুবক এবং সাধারণ মুসলিম বাসিন্দারা মিছিলে অংশ নেন। পিপি জংশন থেকে শুরু হওয়া মিছিল স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নতুন মদ নীতি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার ‘লাক্ষাদ্বীপ আবগারি প্রবিধান, ২০২৬’ চালু করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের ‘লাক্ষাদ্বীপ নিষেধাজ্ঞা প্রবিধান, ১৯৭৯’ বাতিল হয়েছে। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে কার্যকর থাকা এই আইনের মাধ্যমে দ্বীপপুঞ্জে মদের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় ছিল। নতুন আইনে লাইসেন্সের মাধ্যমে মদ বিক্রি ও বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগাত্তি মহল জামাতের চেয়ারম্যান কেসি আব্দুল খাদের সাখাফি বলেছেন, পর্যটনের নামে এমন কোনও নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা দ্বীপের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তার মতে, মদের প্রসার ঘটলে সামাজিক সমস্যা বাড়তে পারে এবং লাক্ষাদ্বীপের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক চরিত্রও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তিনি সরকারের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান।
প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, লাক্ষাদ্বীপের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানকার সমাজ মদমুক্ত পরিবেশে অভ্যস্ত। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করে নতুন নীতি চাপিয়ে দেওয়া হলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর পড়বে।
তাদের দাবি, উন্নয়নের নামে এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বহু মানুষের মতে, পর্যটনের বিকাশের জন্য মদকে অপরিহার্য বলে দেখানোর যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বরং লাক্ষাদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং নিজস্ব সংস্কৃতিই পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। সেই কারণেই নতুন মদ নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। নতুন নীতি প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী দিনেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।




