ককরোচ জনতা পার্টির উত্থান নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও আলোচনা

দিল্লিতে মোদি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে
দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এবার আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল ককরোচ জনতা পার্টি। অনলাইনে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া ককরোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ কেন বাড়ছে, তা নিয়ে মোদি বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মতে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতি সমর্থন বৃদ্ধির বিষয়টি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষের প্রতিফলন। শিবসেনা (উদ্ধব) নেতা উদ্ধব ঠাকরে প্রশ্ন তোলেন, একটি অনলাইন আন্দোলন যদি এত মানুষের সমর্থন পেতে পারে, তবে বিরোধী দলগুলির প্রতি মানুষের আস্থা কমছে কিনা, তা আত্মসমালোচনা করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, শুধু ভোটের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থেকে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বিরোধীদের।
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লার মতে, ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে বিরোধীদের আলোচনা করা উচিত, কারণ তারা নিশ্চয়ই এমন কিছু করছে যা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। সিপিআই(এমএল) নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও ককরোচ আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দেন। সিপিআই (এম)-এর জন ব্রিটাস বলেছেন, সিজেপি আসলে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে নিট-ইউজি ও সিবিএসই পরীক্ষার অনিয়ম নিয়েও সরব হয় বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠানো, অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের প্রশ্নে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি এবং প্রতি দু'মাস অন্তর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়।
অন্যদিকে শরিক দলগুলি কংগ্রেসকে আরও উদার ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নেওয়ার পরামর্শ দেয়। ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং কেরলে বামেদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতৃত্বের মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে রাহুল গান্ধী বৈঠকে আশ্বাস দেন, বিরোধী ঐক্য আরও মজবুত করতে কংগ্রেস কাজ করবে। আগামী বৈঠক হায়দরাবাদে হওয়ার কথা রয়েছে।




