বিজয়ের দলের যে মন্ত্রীরা আজ শপথ নেবেন

থালাপতি বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন থালাপতি বিজয়। তার মন্ত্রিসভায় থাকবেন ৯ সদস্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায় এ তথ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রাথমিক মন্ত্রিসভায় বিজয় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, যুব প্রতিনিধিত্ব, প্রযুক্তিবিদ এবং জাতিগত সমীকরণের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে দলের দ্রুত উত্থানের সময় তার পাশে থাকা মূল দলের সদস্যদেরও করা হয়েছে পুরস্কৃত।
মন্ত্রিসভার বিশিষ্ট মুখদের মধ্যে রয়েছেন- এআইএডিএমকে-র প্রবীণ নেতা কেএ সেনগোত্তাইয়ান, যিনি কয়েক দশক ধরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমজিআর এবং জয়ললিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। ইপিএস-এর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলায় এবং বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় দলের সমালোচনা করায় সেনগোত্তাইয়ানকে এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার অন্তর্ভুক্তিকে এই নবগঠিত সরকারে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব যোগ করার বিজয়ের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলেন আধব অর্জুন। যিনি বিজয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত কৌশলবিদ এবং দলের অভ্যন্তরীণ চক্রের অংশ হিসেবে বিবেচিত। অর্জুন চেন্নাইয়ের ভিলিভাক্কাম আসন থেকে জয়ী হয়েছেন এবং টিভিকে-র সাংগঠনিক পরিকল্পনায় একটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি লটারি ব্যবসায়ী সান্তিয়াগো মার্টিনের জামাতাও।
মাদুরাইয়ের থিরুপারানকুন্দ্রাম থেকে জয়ী নির্মল কুমার মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে চলেছেন। বিজেপির সাবেক কর্মকর্তা নির্মল কুমার রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তন করে দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে টিভিকে-র এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
টিভিকে-র সাধারণ সম্পাদক আনন্দ, যিনি তার শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্কের জন্য পরিচিত, তিনিও শপথ নেবেন। আনন্দ চেন্নাইয়ের টি নগর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন এবং বুথ পর্যায়ে দলের কাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শপথ নিতে যাওয়া অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন— টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্ব রাজ মোহন, যিনি তার বাগ্মিতার জন্য পরিচিত, এবং ডা. টি কে প্রভু, একজন দন্তচিকিৎসক থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ব্যক্তি যিনি কারাইকুডি থেকে জয়লাভ করেছেন।
অরুণ রাজ, একজন চিকিৎসক যিনি টিভিকে-তে যোগ দেওয়ার জন্য তার আইআরএস-এর চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন, তিনি তার নিজের এলাকা তিরুচেঙ্গোড় থেকে জয়লাভ করে মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করছেন। চেন্নাইয়ের মাইলাপোরের বিধায়ক পি ভেঙ্কটরামাননকে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্রাহ্মণ মুখ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ মুখ হবেন কীর্তনা, যিনি বিরুধুনগর জেলা থেকে জয়লাভ করেছেন এবং এখন তামিলনাড়ু রাজনীতির অন্যতম কনিষ্ঠ মন্ত্রী হতে চলেছেন।
এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি তামিলনাড়ুতে একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে টিভিকে-র নাটকীয় নির্বাচনী সাফল্যের পর বিজয় সিনেমার সুপারস্টার থেকে রাজ্য সরকারের প্রধানের পদে আসীন হচ্ছেন। কংগ্রেস নেতারা, যারা টিভিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়েছেন, তারা দপ্তর বণ্টনের আলোচনা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ে শপথ নিতে পারেন।
বিজয়ের নতুন সরকারকে ১৩ মে-র আগে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। নতুন সরকারটি কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই(এম), ভিসিকে এবং আইইউএমএল-এর একটি মিশ্রণ।




