২০২৮ বিধানসভা ভোটে ঐক্যের ডাক লাল থানজারার

সংগৃহীত ছবি
২০২৮ সালের মিজোরাম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানালেন মিজোরাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এমপিসিসি)-র সভাপতি লাল থানজারা। অতীতের ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক বিপর্যয় ভুলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেস কর্মীদের প্রতি আবেদন জানান তিনি।
শুক্রবার এমপিসিসির রাজনৈতিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাল থানজারা বলেন, সম্প্রতি দলের নেতৃত্ব ও বিভিন্ন পদাধিকারীর পুনর্গঠন রাজ্যজুড়ে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তার কথায়, দায়িত্বপ্রাপ্তদের নতুন করে সংগঠিত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। এর ফলে মিজোরামের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বাইবেলের উদ্ধৃতি দিয়ে কংগ্রেস সভাপতি দলের নেতা-কর্মীদের অতীতের ব্যর্থতা ভুলে একসঙ্গে ২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য, রাজনীতিতে থাকা ব্যক্তিদের এমনভাবে কাজ করা উচিত, যাতে তারা ঈশ্বরের অনুমোদন ও আশীর্বাদ পাওয়ার যোগ্য হন। রাজনৈতিক পদকে ব্যক্তিগত লাভ, মর্যাদা বা সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে মানুষের সেবার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যিশুর ‘নাজারেথ ম্যানিফেস্টো’-র প্রসঙ্গ তুলে লাল থানজারা বলেন, দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি, বঞ্চনার অবসান এবং শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই হওয়া উচিত কংগ্রেসের রাজনৈতিক আদর্শের অন্যতম ভিত্তি। এই প্রসঙ্গে তিনি নিউ ল্যান্ড ইউজ পলিসি (এনএলইউপি)-র কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই প্রকল্প নাজারেথ ম্যানিফেস্টোর কিছু লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০২৮ সালে কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরলে এনএলইউপিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে শ্রমজীবী মানুষ ও বেকার যুবকদের উপকার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাল থানজারা বিজেপি এবং বিরোধী দলগুলির সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, মিজোরামের কয়েকটি বিরোধী দল বিজেপিকে ভয় পায় অথবা নির্বাচনের সময় বিজেপির আর্থিক ও সাংগঠনিক সুবিধা নিয়েছে। মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ)-এর সাম্প্রতিক বিজেপি-সম্পর্কিত বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিজেপির বিরুদ্ধে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র দুর্বল করার অভিযোগ তুলে লাল থানজারা বলেন, বিজেপির রাজনীতি খ্রিস্টানদের প্রান্তিক করে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার দিকে এগোচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থকে বৃহত্তর জনস্বার্থের উপরে স্থান দেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি।
‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কের প্রসঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, অতীতে কংগ্রেস নেতৃত্ব জাতীয় ব্যবহারের জন্য গানটির প্রথম দুটি স্তবক গ্রহণ করেছিল। পরবর্তী অংশে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ থাকায় সেগুলি জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
১৯৩৭ সালে কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই পটেল, সুভাষচন্দ্র বসু, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ এবং রাজেন্দ্র প্রসাদের মতো নেতারা গানটির প্রথম দুটি স্তবককে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) বা হিন্দু মহাসভার কোনও ভূমিকা ছিল না বলেও তিনি দাবি করেন।
মিজোরামের শাসকদল জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম)-এর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন লাল থানজারা। তাঁর দাবি, শাসকদলের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের উপদেষ্টাদের মধ্যেও মতবিরোধের খবর রয়েছে। তবে জেডপিএমকে ঐক্যবদ্ধ থেকে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে লাল থানজারা দাবি করেন, সারা দেশে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, রাহুল গান্ধীই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য কংগ্রেসের প্রধান মুখ।
একই সঙ্গে মিজোরামের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আগ্রহী শিক্ষাবিদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী, যুবসমাজ এবং অন্যান্যদের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এমপিসিসি সভাপতি।
শুক্রবারের রাজনৈতিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা এমপিসিসির সাধারণ সম্পাদক আর লালরিনাওমা। অধিবেশনে এমপিসিসির সম্পাদক লালথানকুমা, এডিসিসির সভাপতি লালরোয়েঙ্গা এবং মিডিয়া চেয়ারম্যান লালরেমরুয়াতা রেন্থলেই বিভিন্ন প্রতিবেদন পেশ করেন।






