খাবারেও হিন্দু-মুসলিম বিভাজন, পুজোর মুখে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
- বিরিয়ানি ও মাংস কেনার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রচার
- শিলিগুড়িতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গে উৎসবের মরসুমে খাবারের পছন্দকে ধর্মীয় পরিচয়ের মাপকাঠিতে ভাগ করার প্রবণতা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল। শিলিগুড়িতে দুর্গাপুজোর আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের লাগানো পোস্টারে বিরিয়ানি খাওয়া এবং মাংস কেনার ক্ষেত্রে হিন্দুদের দোকান বেছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রচার ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, খাবারকেও কি এবার ধর্মীয় মেরুকরণের হাতিয়ার করা হচ্ছে?
রবিবার শিলিগুড়ির ভারতনগর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে পোস্টারগুলি। পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের বাড়ির সামনেও সেগুলি দেখা যায়। তার পাড়ার তরুণতীর্থ ক্লাবের পুজোর মাঠেও পোস্টার লাগানো হয়েছে। কোথাও বিরিয়ানি কেনার ক্ষেত্রে হিন্দু পরিচালিত দোকান বেছে নেওয়ার পরামর্শ, কোথাও আবার হিন্দুদের দোকান থেকে মাংস কেনার আবেদন জানানো হয়েছে। পোস্টারের নীচে রয়েছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নাম।
বাংলার সামাজিক জীবনে ধর্ম নির্বিশেষে একে অন্যের দোকান থেকে খাবার কেনা-বেচা দীর্ঘদিনের পরিচিত ছবি। মুসলিম ব্যবসায়ীর দোকানে হিন্দু ক্রেতা কিংবা হিন্দু পরিচালিত হোটেলে মুসলিমের খেতে যাওয়া —এই পারস্পরিক নির্ভরতাই স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। সেই জায়গায় ধর্মের ভিত্তিতে দোকান বেছে নেওয়ার প্রচার সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পোস্টার লাগানোর কথা স্বীকার করেছেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ির নেতা অভিষেক দাস। তার বক্তব্য, শুধু ভারতনগর নয়, শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের সামনেও পোস্টার লাগানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেওয়া। যদিও খাবার কেনার সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে জুড়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, কারা পোস্টারগুলি লাগিয়েছে, তা তার জানা নেই। যারা লাগিয়েছেন, তারাই এ বিষয়ে বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বিভাজনের প্রচার বলে অভিযোগ করেছেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। তার দাবি, আরএসএস পরিচালিত সংগঠনগুলি ধর্ম ও জাতির পরিচয়কে সামনে রেখে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। কে কী খাবেন, কোথা থেকে জিনিস কিনবেন, তার ধর্মীয় পরিচয় কী— এমন নির্দেশমূলক প্রচারকে তিনি অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
শহরের আর এক প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূল নেতা গৌতম দেবও ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী এমন প্রচার দুর্গাপুজোর ঠিক আগে উদ্বেগজনক। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।



