পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে ৬ অক্টোবর ভোট, মিলন প্রধানের পাশে সুপ্রিমকোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নিয়ে বড় কোনও পদক্ষেপ করল না সুপ্রিমকোর্ট। ৫ অক্টোবর, সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের করা আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, আগে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হতে দেওয়া হোক। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “ওকে লড়তে দিন, ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হতে দিন।” ফলে মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে মিলন প্রধানের লড়াইয়ে আপাতত কোনও আইনি বাধা থাকছে না।
মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন- সংক্রান্ত একাধিক ফৌজদারি মামলা নতুন করে সামনে এসেছে। কলকাতা হাইকোর্ট গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। সেই জামিনের মেয়াদ ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার।
সোমবার শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তার দাবি, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন ও বোমা বিস্ফোরণ- সহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল বলেও আদালতে জানানো হয়। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া ঠিক হয়নি।
তবে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যদি এত বছর ধরে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরই না হয়ে থাকে, তা হলে এতদিন পুলিশ কী করছিল। তার বক্তব্য, এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মিলন প্রধানের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি আদালতে জানান, ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় বর্তমানে ২১ দিনের অন্তর্বর্তী জামিনে রয়েছেন তাঁর মক্কেল এবং ভোটের ঠিক আগে তাঁকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন করে আইনি চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
এদিনের শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান। আইনজীবী থাকাকালীন এই মামলার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের হয়ে তিনি সওয়াল করেছিলেন বলে জানান বিচারপতি। সেই কারণে স্বার্থের সংঘাত এড়াতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। এরপর মামলাটি ৭ অক্টোবর ফের শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। এদিকে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। ফলে ভোটের পরেই মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হতে পারে।



