ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের ওপর হামলা
- দিল্লির ২০ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে আহত ছাত্রের এফআইআরের দাবিতে থানার সামনে রাহুল গান্ধীর ধর্না

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি ভারতের একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক উদ্যোগ, যা মূলত ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক বিদ্রুপের আবহে গড়ে ওঠে।
সরকারি স্কুলের অবস্থা খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু অভিযোগ, মানুষের জন্য কাজের সেই কর্মসূচিই পরিণত হল হামলার ঘটনায়। রাজস্থানের জয়পুরে শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক প্রতিনিধি দলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলের দাবি, স্কুল পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তাদের ঘিরে ধরে মারধর করা হয়, ভাঙচুর করা হয় গাড়ি, কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন। ঘটনায় দলের কয়েক জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
ঘটনাটি ঘটে জয়পুরের রামপুরা-কানওয়ারপুরা এলাকার একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে। সংগঠনটির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন নেতারা। তাদের দাবি, স্কুলের পরিকাঠামো, শিক্ষার পরিবেশ ও সাধারণ সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখে প্রশাসনের সামনে বিষয়গুলো তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই একদল লোক তাদের পথ আটকায় বলে অভিযোগ।
ককরোচ জনতা পার্টির সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের সঙ্গে থাকা কর্মীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। তার দাবি, গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েক জন সদস্যকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনায় দলের কয়েক জন কর্মী আহত হন। সংগঠনের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশও জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।
জয়পুরের এই ঘটনার মধ্যেই দিল্লিতে অন্য একটি বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তবে সেটি জয়পুরের হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ২০ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে পুলিশি পদক্ষেপের সময় আহত ছাত্র সাহিল লোচাবের অভিযোগ নিয়ে তিনি শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে ধর্নায় বসেন।
সাহিলের অভিযোগ, ওই কর্মসূচির সময় পুলিশের ছোড়া পেলেটের আঘাতে তিনি আহত হন। তার চোখেও গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের দাবি জানিয়ে আহত সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান রাহুল। তার বক্তব্য, কোনও নাগরিক অভিযোগ করলে তা নথিভুক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা পুলিশের দায়িত্ব।
রাহুলের এই অবস্থান ঘিরেও রাজনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের উপর প্রশাসনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, ২০ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইন মেনেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি ভারতের একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক উদ্যোগ, যা মূলত ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক বিদ্রুপের আবহে গড়ে ওঠে। প্রচলিত রাজনীতির নানা অসঙ্গতি তুলে ধরার পাশাপাশি ছাত্র-যুবদের বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়ে সংগঠনটি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে।
জয়পুরে নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং দিল্লিতে আহত ছাত্রের ন্যায়বিচারের দাবিতে রাহুলের প্রতিবাদ, দুই পৃথক ঘটনাই এখন এই নবীন রাজনৈতিক সংগঠনকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। এক দিকে হামলার তদন্তের দাবি, অন্য দিকে প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন–দুই ইস্যুতেই সরগরম ভারতের রাজনৈতিক ময়দান।






