জেন জি-র মন পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় ভারতের মন্ত্রীরা
- ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচির পরিকল্পনা

ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে এবার হয়তো দেখা মিলবে মোদি সরকারের মন্ত্রীদের। দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত জেন জি-র সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র বাড়াতে ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি দেশজোড়া কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিদিন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসে তাদের
প্রশ্ন, সমস্যা ও দেশের নানা বিষয়ে উপর মতামত শুনবেন তিনি। শিক্ষা, চাকরি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।
তবে এই কর্মসূচি নিয়ে কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোন ঘোষণা হয়নি। ১৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে হওয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে বলে পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রের খবর। এছাড়া ওই দিনই 'পিটিআই' সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। 'ইকনমিক টাইমস এডুকেশনে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসূচির রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায়।
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন মন্ত্রী যাবেন, কবে থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে তারও নির্দিষ্ট তারিখের সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় মন্ত্রীদের দায়িত্ব শুধু সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরাই নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনবেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং তরুণদের জন্য চালু সরকারি সুযোগসুবিধা সম্পর্কেও তাদেরকে জানাবেন। এই কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে এবং যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করবেন এই দুই মন্ত্রী।
তবে এই উদ্যোগের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয় কারণ গত কয়েক বছরে পরীক্ষা, চাকরি ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের ক্ষোভ জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। সেই আবহেই বিরোধী কংগ্রেসও ছাত্র যুবদের কাছে পৌঁছতে ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ কর্মসূচি জোরদার চালাচ্ছে। কংগ্রেসের কর্মসূচি সম্প্রতি সেই প্রচার প্রায় দেশের ৮০০টি শহর ও নগরে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের মোদি সরকারের এই প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিছক প্রশাসনিক যোগাযোগের উদ্যোগ, নাকি তরুণ ভোটার অর্থাৎ জেন জি প্রজন্মের মন বোঝার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রয়াস তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।






