রেড রোড ছেড়ে ব্রিগেডে ঈদের নামাজ, কোরবানিতেও বদলের ছাপ পশ্চিম বাংলায়

ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হলো ঈদ-উল-আজহার প্রধান জামাত
কলকাতায় ঈদের সকালে এ বছর দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি। বহু দশকের প্রথা ভেঙে এবার বিখ্যাত রেড রোডের বদলে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। সকাল থেকেই মুসলিমদের ভিড়ে ভরে ওঠে ব্রিগেড চত্বর। ফলে ভোর থেকেই ব্রিগেড ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন নজরদারি দিয়ে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই রেড রোডে ঈদের নামাজ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজন করতে হবে। সেই নীতির ভিত্তিতেই এবার ব্রিগেডকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও রেড রোডে বড় জমায়েত নিয়ে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আপত্তির কথা সামনে এসেছিল।
বিগ্রেডে ঈদের নামাজ শেষে একে অন্যকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা সফিকুল আলম বলছেন, ‘রেড রোডে নামাজের একটা আলাদা আবেগ ছিল, কিন্তু এখানে জায়গা অনেক বড়। ভিড় সামলানোও সহজ হয়েছে।’ খিদিরপুরের বাসিন্দা ইমরানের কথায়, ‘সবচেয়ে ভালো লেগেছে যানজট কম হয়েছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসতে অসুবিধা হয়নি।’ আবার তপসিয়ার বাসিন্দা পেশায় ডাক্তার নাসিরুদ্দিন শেখ বললেন, ‘ঈদ মানে তো মিলন আর শান্তির উৎসব। জায়গা বদলেছে, কিন্তু উৎসবের আনন্দ কমেনি।’
এদিকে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ব ও সুস্বাস্থ্যের বার্তা দেন। তবে রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে আলোচনা শুরু হয়েছে অন্য একটি বিষয় নিয়েও। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন রাজ্যের মুসলমানদের উদ্দেশে কোনো ঈদ শুভেচ্ছা বার্তা দেননি। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী ঈদের দিনে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকলেন বলে বুদ্ধিজীবীদের মত।
এ ছাড়া এবারের ঈদে রাজ্য সরকারের নতুন গবাদি পশু জবাই-সংক্রান্ত নির্দেশিকার জেরে বহু জায়গায় গরু কোরবানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট সনদ ছাড়া গরু, বলদ বা মোষ কোরবানি করা যাবে না। কলকাতা হাইকোর্টও সম্প্রতি এই বিধিনিষেধে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছে। এর ফলে ছাগল ও ভেড়ার বাজারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এ বছর ছাগলের দাম প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। অনেক নিম্নবিত্ত ও গরিব মুসলিম পরিবার তাই ইচ্ছা থাকলেও কোরবানি দিতে পারেননি।
কলকাতার সোনারপুরের বাসিন্দা এক দিনমজুর বললেন, ‘আগে কয়েকজন মিলে গরু কোরবানি দেওয়া যেত। কিন্তু এবার ছাগলের দাম বেশি হওয়ায় দিতে পারিনি কোরবানি। আমার মতো বহু মানুষ দিতে পারেনি।’
তবে সব বিতর্কের মধ্যেও কলকাতার ব্রিগেডে এ বছরের ঈদের নামাজ শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।







