প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাইল কংগ্রেস, মোদি-শাহকেও সরে দাঁড়ানোর দাবি

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কংগ্রেসের সংঘাত আরও তীব্র হলো। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও পদত্যাগ করতে হবে বলে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল বলেন, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী সেই দায়িত্ব পালন করেননি। তাই এই বিষয়ে তারও নৈতিক দায় রয়েছে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বৈঠকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান কাজকর্ম দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। কংগ্রেসের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলটি অভিযোগ করেছে, শাসক বিজেপির সুবিধা হয় এমনভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাবে এসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করার পাশাপাশি দলটির হিসাবে বাদ যাওয়া প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম ফের ভোটার তালিকায় তোলার দাবি করা হয়েছে। ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে রাস্তায় আন্দোলন, সংসদে প্রতিবাদ এবং আদালতে আইনি লড়াই চালানোর কথাও জানিয়েছে দলটি।
এদিকে মঙ্গলবারই নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলার দ্রুত শুনানিতে সম্মতি দিয়েছে দেশের সুপ্রিমকোর্টও। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আগামী সপ্তাহে মামলাটি শুনবে। আবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কি অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যা আসলে পুরো কমিশনের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে এসআইআর- সহ কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, তিন সদস্যের কমিশন যৌথভাবেই এসআইআর পরিচালনা করছে এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য থাকাটা প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার স্বাভাবিক অংশ। অন্যদিকে এর মধ্যেই বুধবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক হওয়ার কথা। এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে কংগ্রেসের অবস্থানের সঙ্গে অন্য বিরোধী দলগুলো কতটা একমত হয়, এখন সেদিকেই নজর। এছাড়াও কংগ্রেস দেশজুড়ে আন্দোলনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।



