তরমুজ খেয়ে মৃত্যু, রহস্যে ঘুরপাক খাচ্ছেন তদন্তকারীরা

সংগৃহীত ছবি
মুম্বাইয়ের পাইধোনি এলাকায় একটি পরিবারের চার সদস্যের রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে পুলিশ এক গোলকধাঁধায় পড়ে গেছে খুব অদ্ভুতভাবে। গত ২৫ এপ্রিল আবদুল্লাহ দোকাডিয়া, তার স্ত্রী নাসরিন এবং তাদের দুই আদুরে মেয়ে আয়েশা ও জয়নাবকে তাদের নিজেদের ঘরেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরিবারের সবাই একসাথে প্রাণ হারানোর এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভারতীয় মিডিয়া একে ‘তরমুজ মৃত্যু’ নাম দিয়ে সারা দেশে এক বিশাল আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে নিমিষেই।
ঘটনার রাতে দোকাডিয়া পরিবার তাদের আত্মীয়দের বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন করার পর গভীর রাতে তৃপ্তি করে তরমুজ খেয়েছিলেন পরিবারের সবাই মিলে। এর কিছুক্ষণ পরেই তারা প্রচণ্ড বমি আর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর একে একে সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন খুব করুণভাবে।
তরমুজ খেয়েই এমন করুণ দশা হয়েছে ভেবে মুম্বাইয়ের ফলের বাজারে এই ফলের চাহিদা কমে গিয়ে দাম একদম পড়ে গেছে তলানিতে।
কানে উর্বশী আলো
১৪ মে ২০২৬
কিন্তু ইঁদুর মারার এই মারাত্মক বিষ কীভাবে ফলের ভেতরে প্রবেশ করল, তা এখনো একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
দোকাডিয়া পরিবার যে পুরনো ভবনটিতে থাকতেন, সেখানে ইঁদুরের উপদ্রব থাকায় অনেক ভাড়াটিয়া ইঁদুর মারার বিষ বা আঠালো প্যাড ব্যবহার করতেন নিয়মিতভাবে।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে যে এটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা আত্মহত্যার পরিকল্পনা লুকিয়ে আছে অন্য কোনোভাবে।
দোকাডিয়ার বন্ধু, আত্মীয় আর সহকর্মী মিলিয়ে প্রায় ৫০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও আসল রহস্যের কোনো কূলকিনারা এখন পর্যন্ত করতে পারেনি মুম্বাই পুলিশ।
তদন্তকারীরা বিবিসির কাছে স্বীকার করেছেন যে এই মামলাটি সমাধানের জন্য তারা এখন আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতি মুহূর্তে। তরমুজের খোসা আর ঘরের অন্য সব খাবার পরীক্ষা করেও তরমুজ ছাড়া আর কোথাও বিষের চিহ্ন খুঁজে পাননি তদন্ত কর্মকর্তারা।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে আসল কারণটি কী এবং কীভাবে সাজানো একটি সুখী পরিবার শেষ হয়ে গেল, সেই সত্যটি বের করার জন্য পুরো মুম্বাইবাসী এখন পুলিশের দিকে তাকিয়ে আছে অধীর আগ্রহে।
সূত্রঃ বিবিসি





