আস্থা ভোটে জিতলেন বিজয়, ক্ষমতা হলো পাকা

১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়ে বিজয় এখন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী
তামিলনাড়ুর রাজনীতির মাঠ এখন থালাপতি বিজয়ের জাদুকরী বাঁশির সুরে উত্তাল হয়ে উঠেছে। রুপালি পর্দার এই সুপারস্টার অভিনেতা গত মাসের নির্বাচনে বাজিমাত করে ডিএমকে আর এআইএডিএমকের দীর্ঘ ৬২ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটিয়েছেন খুব নাটকীয়ভাবে।
আজ বুধবার এক রুদ্ধশ্বাস আস্থা ভোটে ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়ে বিজয় এখন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের আসনটি পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন।
এই আস্থা ভোটের লড়াইয়ে বিজয় ১৪৪ জন আইনপ্রণেতার জোরালো সমর্থন পেলেও তার বিপক্ষে ভোট পড়েছে মোট ২২টি। দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম দলের ৫৯ জন বিধায়ক এই প্রক্রিয়া চলাকালে সংসদ থেকে একযোগে ওয়াকআউট করেন রাগে-ক্ষোভে।
অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগামের ৪৭ জন বিধায়ককে বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পাঁচজন সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন রহস্যজনকভাবে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ ১০৮টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য তাদের হাতে ১০টি আসন কম ছিল প্রথম থেকেই। এই সংকট মেটাতে বিজয় কংগ্রেস, বাম ফ্রন্ট আর মুসলিম লীগের সঙ্গে টানা চারদিন ধরে দরকষাকষি করে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে নিয়েছেন নিজের ঝুলিতে।
বিজয়ী হওয়ার পর বিজয় গর্ব করে বলেছেন যে তার এই সরকার সবসময় অবহেলিত আর সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় ঢাল হয়ে কাজ করবে রাজ্যের প্রতিটি কোনায়।
আস্থা ভোটের ময়দানে বড় বড় দলগুলো যখন বিজয়কে আটকানোর ফন্দি আঁটছিল, ঠিক তখনই এআইএডিএমকে শিবিরে এক বিশাল ধস নেমেছে হঠাৎ করে। দলের প্রধান পালানিস্বামীর কড়া নির্দেশ অমান্য করে ২৪ জন বিধায়ক বিজয়ের পক্ষে ভোট দিয়ে নিজেদের বিদ্রোহী মনোভাব প্রকাশ করেছেন সবার সামনে।
শানমুগামের নেতৃত্বাধীন এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বিজয়ের হাত ধরায় তামিলনাড়ুর অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তির ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে নিমিষেই।
সিভি শানমুগাম আর এসপি ভেলুমানির মতো ঝানু নেতারা এখন দলের নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে বিজয়ের নতুন জোয়ারে গা ভাসাতে চাইছেন খুব মরিয়া হয়ে। তারা মনে করছেন, বারবার পরাজয়ের গ্লানি মোছার জন্য বিজয়ের সঙ্গে হাত মেলানো ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো ভালো পথ খোলা নেই আপাতত।
অন্যদিকে মূল দল থেকে এই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে যে তারা কেবল মন্ত্রী পদের লোভেই বিজয়ের কাছে নিজেদের নীতি বিসর্জন দিয়েছেন।
তামিল রাজনীতির প্রবাদপ্রতিম নেত্রী জয়ললিতার মৃত্যুর পর থেকেই এআইএডিএমকে দলটি এখন এক বিশাল নেতৃত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করছেন। একের পর এক নির্বাচনে হারার ফলে পালানিস্বামীর জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে এবং সাধারণ মানুষও নতুন মুখের সন্ধানে বিজয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন দলে দলে।
থালাপতি বিজয় এখন তার এই নতুন সরকার নিয়ে তামিলনাড়ুর মানুষের ভাগ্য কতটা বদলাতে পারেন, তা দেখার জন্য পুরো ভারত এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে।





