ছিনতাইয়ের সংকেত, জরুরি অবতরণ ফ্রাঙ্কফুর্ট-দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজের

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ— রয়টার্স/ফাইল
পাইলট ছিনতাইয়ের সংকেত দেওয়ার পর বুধবার সকালে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজকে জয়পুরে সরিয়ে নেওয়া হয়। জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটিকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএর সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। ঘটনাটি তদন্ত করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের এআই ২০৩০ ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে। এরপর নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য উড়োজাহাজটিকে নির্ধারিত একটি বিচ্ছিন্ন স্থানে নেওয়া হয়।
ডিজিসিএর সূত্র অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি ট্রান্সপন্ডারে ৭৫০০ সংকেত পাঠাচ্ছিল। ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই সংকেত ব্যবহার করা হয়। বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের (পিআইসি) পাঠানো সতর্কবার্তাটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) পায়। এরপর ফ্লাইটটির গতিপথ পরিবর্তন করে জয়পুরে নেওয়া হয়।
ডিজিসিএর সূত্র জানায়, কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পাওয়ার পর যাত্রীরা শিগগিরই আবার বিমানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, ১৪ অক্টোবর ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী তাদের এআই ২০৩০ ফ্লাইটটি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে জয়পুরে সরিয়ে নেওয়া হয়। উড়োজাহাজটি জয়পুরে নিরাপদে অবতরণ করে। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় তল্লাশি চালিয়ে বিমান ও ক্রুদের ছাড়পত্র দিয়েছে। সব যাত্রীকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয়। এরপর তারা আবার উড়োজাহাজে উঠেছেন। শিগগিরই ফ্লাইটটির দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখার কথা।
তবে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বোমা হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি অবতরণ করা হয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে মালভিয়া নগরের সহকারী পুলিশ কমিশনার শিব দয়াল বলেন, বোমা হামলার হুমকির খবরের পর ফ্রাঙ্কফুর্ট-দিল্লিগামী উড়োজাহাজটির জরুরি অবতরণের বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছিল।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অবতরণের পর উড়োজাহাজটিকে নিরাপত্তাকর্মীদের পাহারায় নির্ধারিত একটি বিচ্ছিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। নিরাপত্তাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে দুই পাইলট ও যাত্রীদের বিমান থেকে নামানো হয়।
নিরাপত্তা অভিযানে অংশ নেয় সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড (এটিএস), বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এবং স্থানীয় পুলিশ। তল্লাশির অংশ হিসেবে যাত্রী ও তাদের মালপত্র পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীকেও (এনএসজি) প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
এয়ার ইন্ডিয়ার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে তাদের দল। তাদের ভাষ্য, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিঘ্নের কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তাদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা এয়ার ইন্ডিয়ার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’




