সন্ত্রাস-মাদক-মানবপাচার রুখতে দিল্লিতে বিমসটেকের বৈঠক
- বাংলাদেশ-সহ ৭ দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক; সন্ত্রাসে অর্থায়ন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

সন্ত্রাসবাদ, মাদকপাচার, মানবপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থের জোগান—সীমান্ত পেরিয়ে চলা এই অপরাধগুলির মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার পথে আরও এক ধাপ এগোল বিমসটেক। নয়াদিল্লিতে ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হল বিমসটেকের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ১১তম বৈঠক।
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড—বিমসটেকের সাত সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব (সন্ত্রাসবাদ দমন) সুহেল আজাজ খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বিমসটেক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধের নতুন ধরন নিয়ে আলোচনা হয়। সদস্য দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশও উঠে আসে।
বৈঠকে শুধু সন্ত্রাসবাদ নয়, তার সঙ্গে যুক্ত একাধিক অপরাধের দিকেও নজর দেওয়া হয়। মানবপাচার, মাদক ও মাদক তৈরির উপাদানের অবৈধ পাচার, অর্থপাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়গুলি আলোচনায় ছিল।
আইনি সহযোগিতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং সন্ত্রাসবাদে নতুন করে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে।
এই বিষয়গুলিতে বিমসটেকের বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক বৈঠকের রিপোর্টও পর্যালোচনা করা হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে জুলাইয়েও নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সভাপতিত্বে বিমসটেকের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের পঞ্চম বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি সাইবার, সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।
দুর্যোগ মোকাবিলা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নতুন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নিয়েও সেই বৈঠকে সদস্য দেশগুলি মতবিনিময় করেছিল।
দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করেছে বিমসটেক। নিরাপত্তার পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ মোকাবিলাতেও সংগঠনটি সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। তারই মধ্যে দিল্লির বৈঠকে সীমান্ত পেরিয়ে চলা অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলির সমন্বিত পদক্ষেপের উপর নতুন করে জোর দেওয়া হল।



