দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রী মর্যাদা দিল ভারত

আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা পেলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এ তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সদস্যের সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে এই মর্যাদা শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এজন্য দেশের প্রচলিত টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কোনো সংশোধন হচ্ছে না।
‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’ হলো ভারতের রাষ্ট্রীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংবিধানিক পদাধিকারী, মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারভিত্তিক অবস্থান নির্ধারণের তালিকা। কে কোথায় বসবেন বা কোন পদাধিকারী কতটা প্রোটোকল পাবেন, তা এই তালিকার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট, দীনেশ ত্রিবেদীর মর্যাদা শুধু আনুষ্ঠানিক ও প্রোটোকল-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। এর সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত নির্বাহী ক্ষমতার সম্পর্ক নেই।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাকে গার্ড অব অনারও দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ঢাকায় তার কূটনৈতিক দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর সাধারণ ভ্রমণ ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালুর কথা জানান তিনি।
ত্রিবেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ জুন থেকে ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার কেন্দ্রগুলোয় এই আবেদন জমা দেওয়া যাবে। জরুরি চিকিৎসা ভিসা পরিষেবাও আগের মতো চালু থাকবে।
৭৬ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদীকে ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি এই পদে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম ভারতীয় রাজনীতিবিদ। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। প্রণয় কুমার বর্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ত্রিবেদী।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দীনেশ ত্রিবেদীকে বিশেষ প্রোটোকল দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। তিনি যেহেতু একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক পটভূমির হাইকমিশনার, তাই মর্যাদা বাড়লে ঢাকার কাছে তার গুরুত্ব বার্তা বহন করতে পারে।





