বিদেশে পড়াশোনার খরচ নিয়ে আরটিআই-এর জবাবে স্কলারশিপের নথি প্রকাশ অভিজিৎ দিপকের

সংগৃহীত ছবি
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রকাশ্যে এলেন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। ১ অগাস্ট আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারির অভিযোগের পর, তিনি দাবি করেছেন যে আমেরিকার বোষ্টন ইউনিভার্সিটি (Boston University) থেকে স্কলারশিপ পেয়েই পড়াশোনার সুযোগ পান। আর বাদবাকি খরচ মেটাতে তিনি শিক্ষা ঋণ নিয়েছিলেন। যে ঋণ এখনও একটু একটু করে পরিশোধ করছেন। এমনকি নিজের দাবির সমর্থনে স্কলারশিপ সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ্য নথিও প্রকাশ করেছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতা। উল্লেখ্য যে, ঘটনার সূত্রপাত হয় ১ অগাস্ট, গুজরাটের সুরতের আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি প্রশ্ন তোলেন যে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (MIDC) এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার কিভাবে ছেলেকে মার্কি যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে পাঠালেন? সেই বিপুল অর্থ ব্যয় কীভাবে বহন করা সম্ভব হয়েছিল। ওই আরটিআই কর্মীর দাবি, বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
পাশাপাশি তিনি নির্বাচন কমিশন ও জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছেও সিজেপির নিবন্ধন সহ আর্থিক উৎস এবং সমস্ত তহবিল নিয়ে অনুসন্ধানের আবেদন জানান। আর এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে রবিবার সাংবাদিক বরখা দত্তকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিপকে বলেন যে, বিদেশে পড়ার জন্য তিনি বোষ্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। আর অবশিষ্ট অর্থ শিক্ষা ঋণের মাধ্যমে জোগাড় করেন এবং সেই ঋণ এখনও শোধ করছেন তিনি ।
তাঁর আরও বক্তব্য, ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি নথি প্রকাশ করেছেন। যাতে বিষয়টি নিয়ে আর কোনও বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা না থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে । শুধু ব্যক্তিগত অর্থের উৎসই নয় ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়েও মুখ খোলেন দিপকে। তিনি জানান, দল আগামী দিনে দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করবে। সেই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
অভিজিৎ দিপকের দাবি, দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘ ছাত্র আন্দোলনের সময়ও সাধারণ মানুষ খাবার, জল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহায়তা দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অভিজিৎ দিপকের আরও বক্তব্য, কোনও প্রশ্ন উঠলে তার উত্তর নথিসহ দেওয়াই গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার অংশ। অন্যদিকে সিজেপির মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর অভিযোগ করেছেন শুধু তাঁদের দলকেই লাগাতার লক্ষ্য করে আরটিআই করা হচ্ছে। বিভিন্ন আইনি উপায়ে তাদের হেনস্থা করে হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তাঁর দাবি রাজনৈতিক দলগুলির অর্থায়ন নিয়ে যদি প্রশ্ন ওঠে তবে সব দলের ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত।



