‘এক বছর চুপ’ শর্তে মুক্তি দীপকের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
তেরঙ্গা যাত্রাকে ঘিরে সংঘাতের রেশ কাটার আগেই দিল্লিতে নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে গতকাল শনিবার ‘এক বছর চুপ’ শর্তসাপেক্ষে মুক্তির নির্দেশ দিলেন দিল্লির বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অন্যদিকে, রাতভর আটক থাকার পর মুক্তি পেয়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাও। পুলিশের বিরুদ্ধে নারী ও অন্য বিক্ষোভকারীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে গতকাল দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরের দিকে মিছিল করলেন একাধিক মহিলা ও ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা।
গত শুক্রবার কনট প্লেসে সিজেপির ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আটক হন দীপকে ও নেহা। পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ। দীপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রথম ধারাটি শান্তি বজায় রাখার জন্য মুচলেকা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার এবং দ্বিতীয়টি আমলযোগ্য অপরাধ ঠেকাতে পরোয়ানা ছাড়া প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নিয়ে। গতকাল মন্দির মার্গ থানার বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হলে শান্তি বজায় রাখার বন্ডে সই করার শর্তে দীপকেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। এটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলায় জামিনের থেকে আলাদা। এক বছর শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারও তার মুক্তির শর্তের মধ্যে রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে মুচলেকায় (‘পিস বন্ড’) তাকে সই করার নির্দেশ দেন আদালত। সে নির্দেশ মেনে নেওয়ার পর গতকাল বিকালে মন্দির মার্গ থানা থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। আগেরবারও ৫০ হাজার রুপির বন্ডে মুচলেকা দিয়ে এই একই শর্তে জামিন পেয়েছিলেন দীপকে। শুক্রবার ‘তেরঙ্গা যাত্রা’য় যোগ দিতে দিল্লির বাড়ি থেকে বেরোনোর মুহূর্তেই আটক হন দীপকে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, নেহাকে দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ ধারায় আটক করা হয়েছিল। গতকাল সকালে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তির পর নেহার অভিযোগ, তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। তার প্রশ্ন, ‘কোন আইনে মানুষকে সারা রাত আটক রাখা হচ্ছে?’ এসআইআর বন্ধ করা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিও আবার তুলেছেন তিনি।
এই আবহে গতকাল গুরদ্বারা বাংলা সাহিবের কাছে জমায়েত হয়ে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরের দিকে মিছিল করেন একাধিক মহিলা সংগঠন, এসএফআইসহ ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে মহিলা, রূপান্তরকামী ও অন্যান্য প্রতিবাদকারীর সঙ্গে যৌন হেনস্তা এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনানুগ শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সংগঠনগুলো। অভিযোগগুলো এখনো তদন্তসাপেক্ষ; পুলিশি প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কেন্দ্রীয় দিল্লিতে বিএনএসএসের ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকার মধ্যেই এ বিক্ষোভ হয়। পুলিশের দাবি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলার যুক্তিতে প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
ফলে দীপকের মুক্তি সত্ত্বেও এসআইআর, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং পুলিশের আচরণ— তিনটি প্রশ্নেই দিল্লির রাজনৈতিক সংঘাত আপাতত অব্যাহত রয়েছে।



