ভাঙছে ‘বিশেষ সম্পর্ক’
ট্রাম্পের নীতিতে ‘কমছে’ ইসরায়েলের অগ্রাধিকার

ট্রাম্প প্রশাসন আর ইসরায়েলকে ব্যতিক্রমী মিত্র হিসেবে দেখছে না- এআই
দীর্ঘদিন ধরে যেন এক অলিখিত নিয়মই ছিল—ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির ঝড়-ঝাপটা যতই বদলাক, ইসরায়েলের জন্য দরজা সব সময়ই একটু বেশি খোলা থাকবে। কিন্তু সেই ধারণাই এখন ভেঙে পড়ছে। যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এত দিন অন্যদের জন্য ছিল, এবার তার আওতায় চলে এসেছে ইসরায়েলও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্প প্রশাসন আর ইসরায়েলকে ব্যতিক্রমী মিত্র হিসেবে দেখছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাতে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্রদের মতোই ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও একই কৌশলগত নীতি প্রয়োগ করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইসরায়েলি রাজনৈতিক উপদেষ্টা পলিটিকোকে বলেছেন, ইসরায়েল মনে করেছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ব্যতিক্রম হিসেবেই থেকে যাবে তারা।
তিনি বললেন, ‘আমরা সরলভাবে ধরে নিয়েছিলাম যে “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির বাইরে থাকব। কিন্তু এটা দীর্ঘদিন টেকার ছিল না। চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সব পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তে আমরা ব্যতিক্রম হয়ে থাকতে পারতাম না।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই নীতিগত পরিবর্তনের অন্যতম জোরালো সমর্থক হিসেবে উঠে এসেছেন। ইসরায়েলের নেতৃত্বের প্রতি অস্বাভাবিকভাবে সরাসরি সমালোচনাও করেছেন তিনি।
পলিটিকোর দাবি, ভ্যান্স ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রই তাদের ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সমর্থনকে নিশ্চিত ধরে না নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও আগের তুলনায় কমে গেছে।
পলিটিকোর তথ্যমতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালে পাঁচবার ওয়াশিংটন সফর করলেও ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে নেতানিয়াহুর আরেকটি হোয়াইট হাউস সফর বিবেচনায় নেই। পাশাপাশি আগের তুলনায় কমে গেছে দুই সরকারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগও।
ওই সূত্র পলিটিকোকে বলছিলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ সময় এখনো সামনে।’
এর আগে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২ জুন টেলিফোনে কথোপকথনের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেন।
অ্যাক্সিওসের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করে তাকে ‘পাগল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।
পরে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেন, ওই কথোপকথনে নেতানিয়াহুকে ‘অভিশপ্ত পাগল’ বলে বর্ণনা করেছিলেন তিনি।




