প্রধানমন্ত্রী হয়েই বড় সিদ্ধান্ত বার্নহ্যামের

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম- রয়টার্স
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সোমবার দায়িত্ব নেওয়ার পর সব প্রাপ্তবয়স্ক ব্রিটিশ নাগরিকের জন্য সরকার পরিচালিত ডিজিটাল আইডি চালুর পরিকল্পনা বাতিল করবেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই দেওয়া এটিই তার প্রথম বড় নীতিগত ঘোষণা।
বার্নহ্যামের কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর সাগরে (নর্থ সি) নতুন তেল ও গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনার পাশাপাশি নতুন সরকারের মূল অগ্রাধিকার হবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান।
এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডির পরিকল্পনা শিথিল করেছিল। তবে বার্নহ্যাম সরকার পুরো প্রকল্পই বাতিল করছে।
বার্নহ্যামের মুখপাত্র বললেন, ‘জাতীয় ডিজিটাল আইডি প্রকল্পে যে সময় ও সরকারি সম্পদ ব্যয় হওয়ার কথা ছিল, তা এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাতে, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে।’
তিনি আরও বললেন, ‘সরকারি সম্পদের এই পুনর্বিন্যাস আমাদের নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। ব্যয়বহুল জাতীয় প্রকল্পের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এখন সরকারের লক্ষ্য।’
গত বছর লেবার পার্টির সম্মেলনের আগে কিয়ার স্টারমার ডিজিটাল আইডির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, এতে অবৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং নাগরিকেরা বিভিন্ন সরকারি সেবা দ্রুত গ্রহণ করতে পারবেন।
সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বার্নহ্যাম। তার কার্যালয় জানিয়েছে, ‘এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কাজগুলোর একটি হবে মানুষের বর্তমান প্রয়োজনের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া।’
কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া প্রযুক্তিমন্ত্রী জুলিয়া লোপেজ বললেন, ‘লেবার এই প্রকল্পে লাখ লাখ পাউন্ড অপচয় করার পর এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এমনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন যেন তিনিই এসে পরিস্থিতি উদ্ধার করছেন।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘কনজারভেটিভদের চাপের মুখে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডির পরিকল্পনা আগেই কার্যত বাতিল করা হয়েছিল। এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ব্যাখ্যা করতে হবে, তখনকার বক্তব্য কি সঠিক ছিল না, নাকি তিনি এমন একটি সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা আগেই নেওয়া হয়েছিল।’
লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি লিসা স্মার্ট বললেন, ‘মানুষ নিশ্চয়ই স্বস্তি বোধ করবে যে, দৈনন্দিন জীবন চালাতে এখন আর তাদের ব্যক্তিগত তথ্য জোর করে সরকারের কাছে দিতে হবে না।’
অন্যদিকে, বিবিসির সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী কেমি ব্যাডেনক বার্নহ্যামের সরকারি পরিকল্পনাকে ‘অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত’ বলে মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, বার্নহ্যাম ‘দেশের প্রকৃত অগ্রাধিকার সম্পর্কে সচেতন নন’ এবং যুক্তরাজ্যের এমন একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি ‘কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।’




