যুক্তরাজ্য
পদত্যাগ করছেন স্টারমার!

কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে চান না কিয়ার স্টারমার। নিজের ঘনিষ্ঠদের এমনটাই জানালেন। তবে হুট করেই পদ ছাড়বেন না। শিগগিরই ঘোষণা করবেন সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি।
স্টারমারের মন্ত্রিসভার এক সদস্য শনিবার বিকালে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানেন বর্তমান বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের সুবিধামত উপায়ে বিদায় চান। একটি সময়সূচি ঘোষণা করবেন সরকারপ্রধান।’
মন্ত্রিসভার আরেকটি সূত্র বলছে, সেই ঘোষণা ঠিক কবে দেওয়া হবে তা স্পষ্ট নয়। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের প্রথম জরিপ ও প্রচারণার তথ্য আসা পর্যন্ত কোনো ঘোষণা না দিতে পরামর্শ দিয়েছেন স্টারমারের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র।
এক মন্ত্রী দাবি করছিলেন, ‘মরগান ম্যাকসুইনি (প্রধানমন্ত্রীর সাবেক চিফ অব স্টাফ) তাকে টিকে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, যদি জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায় বা অ্যান্ডির হারার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে সুযোগ আছে এখনও।’
তবে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার এক সমর্থক বলছেন, ‘স্টারমার উপনির্বাচনের ফলের জন্য অপেক্ষা করার ঝুঁকি নেবেন না। সেটি ব্যক্তিগতভাবে ‘বড় অপমান’ হবে। যদি অপেক্ষা করেন এবং বার্নহ্যাম জিতে যান, তাহলে মনে হবে তাকে যেন ক্ষমতা থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
অপরদিকে স্টারমারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বার্নহ্যাম শিবিরের এক জ্যেষ্ঠ সহযোগীর ভাষ্য, তারা চান না স্টারমার ১৮ জুনের মেকারফিল্ড ভোটের আগে কোনো ঘোষণা দিন।
‘কিয়ার স্টারমার ব্যালটে থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিশ্চয়তা থাকে। অ্যান্ডির প্রয়োজন এমনভাবে প্রচার চালানো— ‘আপনি যদি আমাকে ভোট দেন, আমি ওয়েস্টমিনস্টারে গিয়ে তাকে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বের করে আনব।’
পুরো সপ্তাহ জুড়ে স্টারমারের মানসিক অবস্থা এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মনোভাব নাটকীয়ভাবে ওঠানামা করেছে। সোমবার রাতে জুনিয়র মন্ত্রীদের একের পর এক পদত্যাগে নড়বড়ে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানেন, শেষ পর্যন্ত তাকে নতি স্বীকার করতেই হবে।




