কোণঠাসা স্টারমার, ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীত্বের আলোচনায় যারা

সংগৃহীত ছবি
ব্রিটেনে গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর থেকেই দলের ভেতরে বাড়তে থাকে অসন্তোষ। অর্থনীতি ও অন্যান্য জাতীয় ইস্যু সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগও ওঠেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে।
চাপের মুখে সোমবার লন্ডনে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দলের কাছে সংশোধনের সুযোগ চেয়েছেন স্টারমার। তার দাবি, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই শুধু সৃষ্টি করবে বিশৃঙ্খলা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় ভূমিকা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। যদিও এতে খুব একটা লাভ হয়নি, ক্রমেই তা হচ্ছে পরিষ্কার।
ক্রমেই জোরালো হচ্ছে কিয়ার স্টারমারকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান। তবে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে আনা হবে, সে বিষয়ে লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এখনো দেখা যাচ্ছে না কোনো ঐকমত্য।
বর্তমান ৪০৩ জন লেবার এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনকে একজন ব্যক্তির পক্ষে একত্র হতে হবে। তবে শিগগিরই এমন কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে আলোচনায় আছে বেশ কয়েকটি নাম।
ওয়েস স্ট্রিটিং
বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী লেবার পার্টির ডানপন্থী অংশের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত এবং তাকে স্টারমারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। বলা হয়, স্ট্রিটিং দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশা পোষণ করছেন। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় তিনি উল্লেখযোগ্যভাবে নীরব ছিলেন এবং কথা বলেননি গণমাধ্যমের সঙ্গেও।
অ্যাঞ্জেলা রেইনার
তিনি একসময় স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে সম্পত্তির কর সঠিকভাবে পরিশোধ না করার অভিযোগে গতবছর পদত্যাগ করেন। রেইনারকে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জে নামার ঘোষণা দেননি। রবিবার এক বিবৃতিতে তিনি স্টারমারকে ‘সময়ের দাবি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা যা করছি, তা কাজ করছে না এবং তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।’ ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি এখনো ব্রিটেনের কর কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, যা তার সম্ভাবনাকে করে তুলতে পারে জটিল।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য নন, কারণ তার পার্লামেন্টে কোনো আসন নেই। চলতি বছরের শুরুতে এক উপনির্বাচনে বার্নহ্যামকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দিয়েছিল লেবার নেতৃত্ব, ফলে স্টারমারের বিরুদ্ধে তার নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ গড়ার সম্ভাবনা থেমে যায়। তবে যেসব এমপি এখনো বার্নহ্যামকে নেতা হিসেবে দেখতে চান, তারা আশা করছেন স্টারমারের পদত্যাগ ও উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে বার্নহ্যাম নির্বাচন করতে পারবেন পার্লামেন্টে একটি আসনের জন্য।




