নতুন উচ্চতায় ফ্রান্স-সাইপ্রাস সম্পর্ক
- কৌশলগত অংশীদারত্বে আরও দৃঢ় দুই দেশ

সাইপ্রাস ও ফ্রান্সের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রপতি দপ্তর।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখন একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জ্বালানি, যোগাযোগ, শিক্ষা এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমাগত জোরদার হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউরোপের বৈশ্বিক ভূমিকা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন শক্তিশালী করার বিষয়ে সাইপ্রাস ও ফ্রান্সের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন।
উল্লেখ্য গত বছরের ডিসেম্বরে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিদেস এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ম্যাক্রোঁ এটিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সাইপ্রাসের পাশে আরও শক্তভাবে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে এই চুক্তির মাধ্যমে।
অন্যদিকে, ক্রিস্টোডৌলিদেস বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে।
চলতি বছরের মার্চে সাইপ্রাসে ইরানি প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ড্রোন হামলার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিসকে সঙ্গে নিয়ে দ্বীপটি সফর করেন। একই সময়ে ফ্রান্স বিমানবাহী রণতরি ‘শার্ল দ্য গল’সহ একাধিক নৌযান ওই অঞ্চলে মোতায়েন করে।
সেই সফরে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, “সাইপ্রাসের ওপর আক্রমণ মানে পুরো ইউরোপের ওপর আক্রমণ।”
এরপর জুন মাসে ফ্রান্স ও সাইপ্রাসের মধ্যে একটি সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে ফ্রান্স মানবিক সহায়তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে সাইপ্রাসে সেনা মোতায়েনের সুযোগ পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্রান্স ও সাইপ্রাসের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।






