পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্ট্রিটিং

সংগৃহীত ছবি
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং৷ এতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব সংকট আরও গভীর হয়েছে। দলটি বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপে পড়েছে ক্ষমতায় আসার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই।
গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস জুড়ে লেবারের হতাশাজনক ফলের পর প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্ট্রিটিং বলেছেন, স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ৪৩ বছর বয়সী স্ট্রিটিং বলেছেন, লেবারের অজনপ্রিয়তাই ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে দলের পরাজয়ের ‘প্রধান ও অভিন্ন কারণ৷’
পদত্যাগপত্রে তিনি লেখেন, ‘এখন স্পষ্ট যে আপনি (স্টারমার) লেবার পার্টিকে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেবেন না। লেবারের সংসদ সদস্য ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো চায়, এরপর কী হবে–সেই আলোচনা ব্যক্তিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং চিন্তা ও নীতির লড়াই হোক।’
তিনি আরও বললেন, ‘এই প্রক্রিয়া হতে হবে বিস্তৃত। সেখানে সম্ভাব্য সেরা প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আমি সেই পদ্ধতির সমর্থন করি এবং আশা করি, আপনি তা সহজ করবেন।’
যদিও স্ট্রিটিং আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ জানাননি, তার পদত্যাগকে লেবারের নেতৃত্বের লড়াইয়ের সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করতে ৮১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। তবে তিনি এমন সমর্থন পেয়েছেন কি না, তা জানাননি।
স্ট্রিটিংয়ের এই সিদ্ধান্ত এলো প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নতুন আইন প্রণয়ন কর্মসূচি ঘোষণার এক দিন পর। বুধবার রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাষণে সরকারের আগামী বছরের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য নতুন আধুনিকায়ন বিলের কথাও ছিল সেখানে।
পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময়কার সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালে লেবার সরকার গঠনের পর পরিকল্পিত চিকিৎসাসেবার অপেক্ষমাণ সময় কমানোর লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। জরুরি বিভাগে অপেক্ষার সময়ও কমেছে। পাশাপাশি ২ হাজার নতুন সাধারণ চিকিৎসক এবং ৮ হাজার ৫০০ মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসা করে স্ট্রিটিং বললেন, ‘এটি ব্রিটেনের সেরা মূল্যবোধের প্রতীক। আমাদের লেবার সরকারের কারণে এটি পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। অনেক কাজ হয়েছে, তবে আরও অনেক কিছু করার বাকি।’
তবে তিনি বললেন, ‘এসবই আমার পদে থাকার পক্ষে যথেষ্ট কারণ ছিল। কিন্তু এই সপ্তাহের শুরুতে আমাদের আলোচনার পর আপনার (স্টারমার) নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে আমি মনে করেছি, দায়িত্বে থাকা অসৎ ও নীতিবিরুদ্ধ হবে।’
স্টারমারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে স্ট্রিটিং লেখেন, ‘যেখানে আমাদের প্রয়োজন ছিল দৃষ্টিভঙ্গি, সেখানে আছে শূন্যতা। যেখানে প্রয়োজন ছিল দিকনির্দেশনা, সেখানে আছে ভাসমানতা।’
দলের ভেতরে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, ‘আপনার সহকর্মীদের কথা, বিশেষ করে পেছনের সারির সংসদ সদস্যদের কথা শুনতে হবে। আমাদের রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ভিন্নমতের প্রতি কঠোর আচরণ।’
এর আগে চলতি সপ্তাহে চারজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জেস ফিলিপস। এ ছাড়া ৮০ জনের বেশি লেবার সংসদ সদস্য স্টারমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে বা সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণা করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেননি।
গত সপ্তাহে ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচন ছিল ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবারের বড় জয়ের পর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। ১৩৬টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভোট হয় স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসেও।
ওয়েলসের আইনসভা নির্বাচনে লেবার পার্টির ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখে পড়ে৷ অন্যদিকে টানা পঞ্চমবারের মতো ক্ষমতায় আসে স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)৷
স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির সম্ভাব্য নতুন নেতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এঞ্জেলা রাইনার, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড৷




