আগামীর সময়

মৃত্যুর আগে শেষ বক্তৃতায় কী বলেছিলেন খামেনি

মৃত্যুর আগে শেষ বক্তৃতায় কী বলেছিলেন খামেনি

সংগৃহীত ছবি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনসমক্ষে যে শেষ ভাষণটি দিয়েছিলেন, তার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ওয়ানা’ (WANA) এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত এই ফুটেজে জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার পর খামেনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

ভাষণে খামেনি বললেন, ‘আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধী অস্ত্র থাকতে হবে। কোনো দেশের কাছে যদি প্রতিরোধী অস্ত্র না থাকে, তাহলে সেই দেশ শত্রুর পায়ের নিচে পিষ্ট হবে।’ ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, শনিবার ভোরে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

এদিকে মৃত্যুর ১১ দিন আগে সবশেষ বারের মতো তিনি জনসম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রতিরোধক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন।
জেনেভায় যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন তিনি এই বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

খামেনি বলেছিলেন, ‘প্রতিরোধক অস্ত্র আমাদের দেশের জন্য অতি জরুরি একটি বিষয়। আমেরিকানরা কোনো কারণ ছাড়াই এখানে নাক গলাচ্ছে। তারা বলে ‘তোমার এমন ধরনের মিসাইল থাকতে হবে, তোমার রেঞ্জ এতটুকু হতে পারবে, এর চেয়ে বেশি নয়’! এর মানে কী! তাতে তোমাদের সমস্যা কোথায়? এই ব্যাপারটা তো ইরানি জাতির।’

যুক্তরাষ্ট্রকে সেদিন তিনি কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। তিনি যোগ করেন, ‘তাদের কাছে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী; বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো কখনো শক্তিশালী থাপ্পড় খেতে পারে, এতটাই শক্তিশালী যে, এরপর আর তারা উঠে দাঁড়াতে পারে না।’

এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি। এ ঘটনার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি নিজেও নিহত হয়েছেন।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।’


    শেয়ার করুন: