Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
কৃষক গড়েছেন ব্যতিক্রমী কলেজ
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় বিদেশ

হাওয়াইয়ের পরিবেশ ধ্বংস করা হরিণ যেভাবে খাবারের পাতে

কিকি আরানিতা
agamir somoy
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩৮
হাওয়াইয়ের পরিবেশ ধ্বংস করা হরিণ যেভাবে খাবারের পাতে

শিকার দলের সদস্য মেসন ফুকুনগা একটি হরিণ উদ্ধার করছেন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

১৮৬৮ সালে হংকং সরকার হাওয়াইয়ের রাজা কামেহামেহা পঞ্চমকে আটটি অ্যাক্সিস হরিণ উপহার দিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা এই প্রাণীগুলো ছিল দেখতে অপূর্ব। মধুর মতো রঙ্গের লোমের গায়ে ছড়িয়ে ছিল ছোট ছোট সাদা দাগ। তবে মাউই দ্বীপে তাদের আগমন ঘটে অনেক পরে, ১৯৫০-এর দশকে। শখের শিকারিদের জন্য তাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাওয়াইয়ে তাদের আগমনের এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর, বর্তমানে আনুমানিক ৬০ হাজার অ্যাক্সিস হরিণ লানাই, মাউই ও মোলোকাই দ্বীপে বিচরণ করছে। দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো এসব হরিণ পরিবেশের চেহারা বদলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে দেখা যাওয়া সাধারণ হোয়াইট-টেইলড হরিণের প্রজননকাল যেখানে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত, সেখানে অ্যাক্সিস হরিণ সারা বছরই প্রজনন করে। ফলে তাদের পাল ক্রমাগত বাড়ছে। তারা স্থানীয় ঘাস ও বিপন্ন উদ্ভিদ খেতে খেতে একেবারে শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়, ফলে বিস্তীর্ণ জমি অনুর্বর পড়ে থাকে। তারা ১০ ফুট উঁচু বেড়া টপকে যেতে পারে, কিংবা ধাক্কা দিয়ে বেড়া ভেঙে ফেলতে পারে। এরপর খেয়ে ফেলে কৃষকদের ফসল এবং মাউইয়ের ছোট আকারের গরুর মাংস শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গবাদিপশুর খাদ্য।

ফেব্রুয়ারিতে এক খালার জন্য একটি নির্দিষ্ট ধরনের ব্লাড সসেজ খুঁজতে গেলে সেটি পাওয়া গেল না। কাহুলুইয়ের আনকেল লুই’স সসেজ কোম্পানির মালিক জয় এনরিকেস বললেন, ‘আমরা এটি তৈরি করা বন্ধ করে দিয়েছি। এর জন্য যতটা গ্রিন অনিয়ন প্রয়োজন, ততটা আমরা পাচ্ছিলাম না। স্থানীয় কৃষকেরা যতটুকু চাষ করছিলেন, হরিণগুলো সব খেয়ে ফেলেছে।’

অ্যাক্সিস হরিণ ধ্বংসাত্মকও বটে। সৌভাগ্যের বিষয়, তাদের মাংসও সুস্বাদু। আর একটি কোম্পানির কাছে এই অতিরিক্ত হরিণের সংখ্যাই হয়ে উঠেছে একটি সুযোগ।

মাউই নুই ভেনিসন ব্যক্তিমালিকানাধীন র‍্যাঞ্চ থেকে হরিণ সংগ্রহ করে। র‍্যাঞ্চের মালিকেরা কতগুলো হরিণ শিকার করতে চান, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এই নিধন কার্যক্রমের তদারকি করেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা প্রতিটি হরিণ হত্যার হিসাব রাখেন এবং উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করে হরিণের সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করেন। হরিণের মাংস দিয়ে তৈরি হয় স্টেক, কিমা, বোন ব্রথ, জার্কি এমনকি বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গভিত্তিক হেলথ-সাপ্লিমেন্টও।

কোম্পানিটির কাজকে হয়তো প্রজাতিগুলোর পারস্পরিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার এক ন্যায্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ২০১১ সালের মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘এই প্রজাতির হরিণ বনভূমির নিচু স্তরের উদ্ভিদের অত্যন্ত লোভী ভক্ষক। এর মধ্যে স্থানীয় গাছের চারাও রয়েছে, যেগুলো স্থানীয় হাওয়াইয়ান বনপাখিদের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

হাওয়াইয়ে অ্যাক্সিস হরিণের কোনো প্রাকৃতিক শিকারি ছিল না। ফলে তারা অবাধে বংশবিস্তার করেছে। জানুয়ারিতে অ্যাক্সিস হরিণের কারণে খরা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠায় রাজ্যটির গভর্নর জশ গ্রিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। হাওয়াইয়ে অ্যাক্সিস হরিণের প্রভাব নিয়ে এটি ছিল ২৫তম এমন ঘোষণা।
মাউইতে এভাবেই চলে রাতের শিকার, দূরে কাহালাওয়াই পর্বতসহ উলুপালকুয়া
প্রতি রাত অনেকটা সামরিক অভিযানের মতো

প্রায় এক দশক ধরে মাউই নুই ভেনিসন অ্যাক্সিস হরিণকে খাদ্যে পরিণত করার উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। নাইট-ভিশন প্রযুক্তি, ইনফ্রারেড ড্রোন, ইউটিলিটি টেরেইন ভেহিকল এবং সামরিক বাহিনীর বিশেষ কমান্ডোরা যে ধরনের বন্দুক ব্যবহার করেন, সেই একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে মাউই নুইয়ের শিকারিরা আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি রাতেই হরিণ শিকার করেন। সাধারণত প্রতি রাতে ৪০ থেকে ৫৫টি হরিণ নিধন করা হয়, যাদের বেশির ভাগের বয়স কয়েক বছর। প্রতিটি হরিণ থেকে প্রায় ৪২ পাউন্ড মাংস পাওয়া যায়। তবে ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজনের কিছু পুরুষ হরিণ থেকে এর চেয়ে অনেক বেশি মাংস পাওয়া যায়।

ফেব্রুয়ারির এক অসাধারণ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাতে আমি মাউইয়ের মধ্যাঞ্চলের ঝোপঝাড়ে ঢাকা ভূদৃশ্যে মাউই নুইয়ের শিকারি ও তাদের সহকারীদের অনুসরণ করি। শিকারিরা সবাই পুরুষ, বেশির ভাগের বয়স ২০-এর কোঠার শুরুর দিকে। তারা টানা সাত দিন কাজ করেন এবং পরের সাত দিন ছুটিতে থাকেন। দিনের বেলায় তারা রূপান্তরিত, ইনসুলেশন করা শিপিং কনটেইনারে ঘুমান। দিনের আলো আটকাতে সেগুলো ফয়েল ও ডাকটেপ দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা হয়।

প্রতি রাতে তারা দুইটি আলাদা দলে ভাগ হয়ে ভিন্ন ভিন্ন দিকে বেরিয়ে পড়েন। প্রতিটি দলের সঙ্গে থাকেন একজন কৃষি বিভাগের পরিদর্শক। তিনি প্রতিটি প্রাণী পরীক্ষা করে শিকারিকে গুলি করার অনুমতি দেন। কাঁটায় ভরা কিয়াওয়ে মেসকুইট গাছের ঝোপের চারপাশ দিয়ে তাদের অফ-রোড যানবাহনের বহর ঘুরে বেড়ায়। শিকারিরা বারবার বলছিলেন, ‘এগুলো এমন কাঁটা, যা আপনার সব কটি টায়ার ফুটো করে দেবে।’

ওয়াইলুকুর টিফানিজ রেস্তোরাঁর শেফ ও মালিক শেলডন সিমিয়ন ঐতিহ্যবাহী কিমা করা শূকরের মাংসের বদলে মাউই নুইয়ের হরিণের মাংস দিয়ে তার ওয়ানটন ভরেন।

সিমিয়ন বললেন, ‘আমাদের এমন একটি বুনো খাদ্যসম্পদ রয়েছে, যা আমাদের পরিবেশব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে এবং অবাধে ছড়িয়ে পড়ে উপদ্রবে পরিণত হয়েছে। ভেনিসন নিয়ে মানুষ কিছুটা দ্বিধায় থাকতে পারে, কারণ এর মাংসে বুনো প্রাণীর মতো গন্ধ ও স্বাদ থাকার ধারণা রয়েছে।’

তিনি বললেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার রেশন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হওয়ার পর থেকে হাওয়াইয়ের মানুষ খুব সহজেই “কস্টকোতে গিয়ে কিমা করা শূকরের মাংস বা ক্যানজাত শূকরের মাংস কিনে নেওয়ার” দিকে যায়। কিন্তু মাউই নুইয়ের ভেনিসনের মাংসে সেই বুনো স্বাদ ততটা নেই, কারণ মাউইয়ে হরিণগুলো যা খায় তার কারণে। এটি স্বাদে সমৃদ্ধ এবং রান্নাও খুব সহজ।’

‘আর এগুলো পরিষ্কারও!’ উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললেন মাউই নুই ভেনিসনের হারভেস্ট বিশেষজ্ঞ কিয়াহি কামারা। তিনি একটি ইউটিভি চালিয়ে কোম্পানিটির বেস ক্যাম্পে যাচ্ছিলেন। ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও অনেক এমন বুনো শূকরের তুলনায় অ্যাক্সিস হরিণ সাধারণত গোবর বা কাদায় মাখামাখি থাকে না।

এর আরও সুবিধা রয়েছে। কামারা বললেন, ‘মোলোকাইয়ে এক পাউন্ড সাধারণ গরুর কিমা ২০ ডলার। তার বদলে স্থানীয় উচ্চমানের ভেনিসনের জন্য ৫ ডলার দিয়ে সেটি দিয়ে বার্গার বানাতে চাইবেন না?’

যখনই কোনো হরিণের দেখা মেলে, শিকারিরা ইলেকট্রনিক ডাক ব্যবহার করে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেটির শব্দ অনেকটা সুরেলা হাঁসের ডাকের মতো। এরপর প্রায়ই শোনা যায় একটি ধারাবাহিক শব্দ—একটি ফেটে যাওয়ার শব্দ, বাতাস চিরে যাওয়া শিসের মতো শব্দ এবং তারপর একটি ধপ করে পড়ার শব্দ।

কামারা বললেন, ‘তারা নিশ্চিত করেন, আমরা যেন প্রাণীকে আহত করে কষ্ট না দিই। কৃষি বিভাগ নিশ্চিত করে যে প্রাণীগুলোকে সঙ্গে সঙ্গে অচেতন করে দেওয়া হচ্ছে।’

এক্ষেত্রে অনেক নিয়ম রয়েছে। গুলি করতে হবে মাথায়। মাথায় গুলি করার পরও যদি হরিণটি সঙ্গে সঙ্গে মারা না যায়, তাহলে শিকারি কাছে গিয়ে আরও একটি গুলি করে তাকে মেরে ফেলতে পারেন। হরিণের আকারও নির্দিষ্ট হতে হবে। খুব ছোট হরিণ এবং বিশাল আকারের পুরুষ হরিণ—দুটিই তাদের মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী দলের হিসাবকে জটিল করে দেয়।

কামারা বললেন, ‘আপনি সারাদিন প্রাণীটির পেছনে ছুটছেন না, তাকে অনুসরণও করছেন না। ছেলেরা দিনে শিকার করতে ভালোবাসে, তবে তখন তারা ধনুক ব্যবহার করে। হরিণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমরা শুধু গুলি করি। অনুসরণ করার কাজটি প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।’

প্রতি দুই সপ্তাহে এক রাতে তারা পরিদর্শকদের ছাড়াই বের হন এবং বিশেষভাবে মাউইয়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য হরিণ শিকার করেন। এসব হরিণের মাংস কিমা করে হিমায়িত করা হয় এবং মাউইয়ের বিভিন্ন কমিউনিটি হাবে বিতরণ করা হয়। কোম্পানিটি এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘হোলো ‘আই’। হাওয়াইয়ান ভাষায় ‘হোলো’ অর্থ প্রবাহিত হওয়া এবং ‘আই’ অর্থ খাবার। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এই মাংস বিনামূল্যে।

হাওয়াই তার খাদ্য সরবরাহের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে আমদানি করে। তবে মহামারির সময় সমস্যা সরবরাহ নিয়ে ছিল না, বরং খাদ্য বিতরণ নিয়ে ছিল।

কামারা বললেন, ‘আমাদের কাছে অতিরিক্ত খাবার ছিল, কারণ আমদানি করা সব খাবার পর্যটকদের জন্য চলে যেত, আর কোভিডের সময় কোনো পর্যটক ছিল না। কিন্তু একই সঙ্গে খাবার বিতরণের ব্যবস্থাও ছিল না।’
মাউই নুই-এর খাদ্য-বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে, হলো ‘আই প্রোগ্রামের স্বেচ্ছাসেবকরা একটি কমিউনিটি কুলারে হরিণের মাংসের কিমা সংরক্ষণ করছেন।
মাউইয়ের বাসিন্দাদের কাছে খাবার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে একটি সংকট তৈরি হয়েছে বুঝতে পেরে মাউই নুই তাদের ‘হোলো ‘আই’ কর্মসূচি পুরো মাউইজুড়ে সম্প্রসারণ করে।

উঁচু পাহাড়ি ঢালবিশিষ্ট মাউইয়ের আপকান্ট্রি এলাকায় র‍্যাঞ্চ স্থাপনের জন্য স্থানীয় বন পরিষ্কার করা হয়েছিল। আর এই ইতিহাস হরিণ আসারও অনেক আগের। কামারা বলেছেন, ‘তারপরও আমরা পানিওলো (হাওয়াইয়ান কাউবয়) সংস্কৃতিকে মহিমান্বিত করি।’

পরদিন সকালে তিনি আমাকে একই ইউটিভিতে করে উলুপালাকুয়া র‍্যাঞ্চের মধ্য দিয়ে নিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা আগে যে একই এলাকার ওপর দিয়ে অন্ধকারে শিকারিদের সঙ্গে গিয়েছিলাম, এবার দিনের আলোয় সেখান দিয়েই যাচ্ছি। তিনি আমাদের ওপরের জমির দিকে ইঙ্গিত করলেন—উঁচু এলাকার জমি গবাদিপশু পালনের জন্য এবং নিচু এলাকার জমি আখ চাষের জন্য ব্যবহৃত হয়।

তিনি বললেন, ‘আপনি এখানে যারা এসেছে, প্রত্যেকের ছাপ দেখতে পাচ্ছেন। হাওয়াইয়ে ধ্বংসাত্মক খাদ্য উৎপাদনের এসব স্তরের পর যদি আরও একটি নতুন স্তর যুক্ত হয়, তাহলে সেটি কেমন হবে?’

অ্যাক্সিস হরিণের কারণে যতই সমস্যা হোক, মাউই নুই তাদের পুরোপুরি নির্মূল করতে চায় না। বরং তাদের সংখ্যা ভারসাম্যের মধ্যে রাখতে চায়।

কামারা বললেন, ‘কিছু র‍্যাঞ্চের মালিক তাদের “ছোপওয়ালা ইঁদুর” বলে থাকেন। কিন্তু আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল সেই মানসিকতা বদলানো। এটি একটি সম্পদ, আগ্রাসী প্রজাতি নয়।’

কামারা উলুপালাকুয়া র‍্যাঞ্চের পুনর্বনায়ন করা এলাকাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করলেন। র‍্যাঞ্চটি এখনও মূলত গবাদিপশু পালনের জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে বিপন্ন কোয়া গাছ জন্মানোর জন্য বিস্তীর্ণ জমি আলাদা করে রাখা হয়েছে। কোয়া বনের অংশগুলো ‘আপাপানে’র মতো স্থানীয় পাখিদের কলকাকলিতে মুখর। আমি সেখানে উজ্জ্বল লাল ও হলুদ রঙের কাঁটাযুক্ত ফুলের মতো দেখতে বিপন্ন ‘ওহিয়া লেহুয়া গাছও দেখতে পেলাম।

কামারা বললেন, ‘স্থানীয় পাখিরা ফুল ফোটা গাছের পেছনে আসে। কিন্তু হরিণগুলো গাছের চারাগুলোকে বেড়ে উঠতে দেয় না। তবে এখন কিছু চারা টিকে যাচ্ছে।’

পুনর্বনায়নের ফলে ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও পুনরুদ্ধার হয়েছে। সূর্য ওঠার সময় আমরা ঝোপের মধ্যে বসবাসকারী পুয়েও বা হাওয়াইয়ান শর্ট-ইয়ার্ড পেঁচার ডাক শুনতে পেলেও তাকে দেখতে পাইনি।

ফেব্রুয়ারি ও মার্চে একের পর এক ভয়াবহ ঝড় মাউইসহ অন্যান্য দ্বীপে আঘাত হানে। নিম্নচাপের আবহাওয়া ব্যবস্থা পশ্চিম মাউই, ওআহুর উত্তর উপকূল এবং মোলোকাইয়ে হারিকেনের গতির বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা নিয়ে আসে। এতে খামারগুলো ধ্বংস হয় এবং হাওয়াইয়ের খাদ্যব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবুও মাউই নুই স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য হরিণ শিকার এবং স্থানীয় কুলার ও ফ্রিজগুলো কিমা করা ভেনিসনে ভরে দেওয়ার কাজেই মনোযোগ ধরে রাখে।

দ্য গার্ডিয়ান থেকে অনূদিত।

হাওয়াইযুক্তরাষ্ট্রহরিণহরিণের মাংস
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise