ব্যয় কমাতে সরকারি চাকরির ১৮০০ পদ বিলুপ্ত করছে নেপাল

ছবি: রয়টার্স
রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে আরও কার্যকর, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও দক্ষ করে তুলতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি সরকারি চাকরির পদ বিলুপ্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপাল সরকার। এর মধ্যে সচিব পর্যায়ের ১০টি পদও রয়েছে।
সরকারি প্রশাসনে সংস্কার, প্রশাসনিক ব্যয় কমানো এবং সরকারি কার্যক্রম আরও গতিশীল করার অঙ্গীকারের পর বালেন্দ্র শাহ সরকারের উদ্যোগে সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ওঅ্যান্ডএম) জরিপ পরিচালনা করা হয়। জাতীয় কর্মচারী নথি বিভাগ (সিভিল) জানিয়েছে, বর্তমানে নেপাল সরকারের ১ হাজার ৮৮৫টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয়ে অনুমোদিত পদের সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার।
কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রস্তাবিত ছাঁটাই মোট জনবলের প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। তবে মন্ত্রণালয়গুলো সংশোধিত জনবল কাঠামো পর্যালোচনা শেষ করার পরই চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
গত ১৬ জুলাই মন্ত্রিসভা সংশোধিত সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ১৮টিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে প্রস্তাবগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘কিছু মন্ত্রণালয়ের ওঅ্যান্ডএম প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও জনবল কাঠামো চূড়ান্ত করতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পদ বিলুপ্ত হতে পারে।’
এই পুনর্গঠনের আওতায় সচিব পর্যায়ের ১০টি পদ—এর মধ্যে প্রশাসনিক ৫টি এবং কারিগরি ৫টি—বাতিল করা হবে। পাশাপাশি যুগ্মসচিব পর্যায়ের ৪৫টি পদ বিলুপ্ত হবে, যার মধ্যে ৪১টিই প্রশাসন ক্যাডারের।
সবচেয়ে বেশি পদ কমানো হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। একই সঙ্গে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার প্রধান জেলা কর্মকর্তার (সিডিও) নেতৃত্বাধীন জেলার সংখ্যা ৬১ থেকে কমিয়ে ৫২ করা হবে। তবে নতুন গঠিত মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের জন্য একটি যুগ্মসচিব পদ সৃষ্টি করা হবে। এ ছাড়া ৯৫টি সেকশন অফিসার ও নন-গেজেটেড প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার পদ যুক্ত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রশাসন ক্যাডারের সাতটি যুগ্মসচিব এবং ৯টি উপসচিবের পদ বিলুপ্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে পররাষ্ট্র ক্যাডারের সব পদ বহাল রাখার সুপারিশ করেছে। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ফেডারেল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়। তাদের মতে, বিদেশে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জাতীয় কর্মচারী নথি বিভাগের মহাপরিচালক শ্রবণ কুমার পোখরেল জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত জনবল তালিকা বিভাগে পৌঁছেছে। পরিবর্তনগুলো দ্রুত কার্যকর করতে একটি বিশেষ দল কাজ করছে।






