নেপাল-ভারতের সেনাবাহিনীতে ‘সম্মানসূচক জেনারেল’ প্রথার নেপথ্যে কী?

১৭ আগস্ট নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল জেনারেল ধীরজ শেঠকে নেপালি সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেলের পদ প্রদান করেন।
নেপাল ও ভারতের সেনাবাহিনীর সম্পর্কের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঐতিহ্য রয়েছে। প্রায় ৭৬ বছর ধরে দুই দেশের সেনাপ্রধানকে একে অপরের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক ‘জেনারেল’ পদ দেওয়ার প্রথা চলে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নেপালের সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল হয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল জেনারেল ধীরজ শেঠকে নেপালি সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেলের পদ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে তাকে একটি তলোয়ার ও সম্মানসূচক দলিলও দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দুই দেশের সামরিক ঐতিহ্য আবারও সামনে এলো।
কীভাবে শুরু হয়েছিল এই প্রথা?
১৯৫০ সালে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল কে এম কারিয়াপ্পার নেপাল সফরের সময় এই ঐতিহ্যের সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে এটি নেপাল ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে।
প্রথাটি একতরফা নয়। নেপালের সেনাপ্রধানও ভারতের সম্মানসূচক জেনারেল হন। অর্থাৎ, ভারতের সেনাপ্রধানকে নেপালের সম্মানসূচক জেনারেল এবং নেপালের সেনাপ্রধানকে ভারতের সম্মানসূচক জেনারেল করার মাধ্যমে দুই দেশ সামরিক সম্পর্কের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও এই ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে। ২০২০ সালে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে নেপালি সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল হন। ২০২২ সালে জেনারেল মনোজ পান্ডেকেও একই সম্মান দেওয়া হয়। বিপরীতে, নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল পূর্ণচন্দ্র থাপা ২০১৯ সালে এবং জেনারেল অশোক সিগদেল ২০২৪ সালে ভারতের সম্মানসূচক জেনারেলের পদ পান।
শুধু সম্মান, নাকি আরও কিছু?
এই পদ মূলত প্রতীকী ও সম্মানসূচক। এর মাধ্যমে একজন দেশের সেনাপ্রধান অন্য দেশের সেনাবাহিনীর ওপর বাস্তব কমান্ড বা নিয়ন্ত্রণ পান না। বরং এটি দুই দেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রতীক।
নেপাল ও ভারতের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উচ্চপর্যায়ের সফর এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয় দীর্ঘদিনের। ফলে ১৯৫০ সালে শুরু হওয়া এই প্রথা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সম্মান নয়; দুই দেশের ঐতিহাসিক সামরিক সম্পর্কেরও একটি দৃশ্যমান প্রতীক।
৭৬ বছর পরও সেই ঐতিহ্য অটুট। জেনারেল ধীরজ শেঠকে নেপালের সম্মানসূচক জেনারেল করার মধ্য দিয়ে আরও একবার স্পষ্ট হলো—নেপাল ও ভারতের সামরিক সম্পর্কের পুরোনো এই প্রতীকী বন্ধন এখনও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।






