আগামীর সময়

ক্ষমতাচ্যুত রাজা পাকশের মতো ভরাডুবির পথে নেপালের ওলি

ক্ষমতাচ্যুত রাজা পাকশের মতো ভরাডুবির পথে নেপালের ওলি

শ্রীলঙ্কায় গণবিক্ষোভের মুখে রাজাপাকসা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় পার্লামেন্ট নির্বাচন। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে দেশটির নতুন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের নির্বাচনী জোট ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি)।

তবে নেপালে অভ্যুত্থানের মুখে কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে— অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)।

সর্বশেষ প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী— আরএসপি ১০৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি মাত্র এগিয়ে আছে ১০টি আসনে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাপক ভরাডুবি হতে পারে ক্ষমতাচ্যুত কেপি শর্মা ওলির কমিউনিস্ট পার্টির।

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে— ১৯৬ আসনের মধ্যে বামপন্থী এনপিপি ১৩৭টিতে জয় পায়। অর্থাৎ, তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারা প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এনপিপি জোটের প্রধান প্রতিপক্ষ সমাগি জনা বালাবেগায়া (এসজেবি) ৩৫টি আসনে জয় পেয়েছে।

এই নির্বাচনে মাত্র তিনটি আসন পায় ক্ষমতাচ্যুত হওয়া রাজা পাকশের দল শ্রীলঙ্কান জনশক্তি (এসএলপিপি)। বলা যেতে পারে, এসএলপিপির মতো ব্যাপক ভরাডুবি হতে চলেছে নেপালের ক্ষমতাচ্যুত কেপি শর্মা ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (সিপিএন–ইউএমএল)।

এর আগে অনূঢ়া কুমারা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময় পার্লামেন্টে তার নির্বাচনী জোট এনপিপির আসন ছিল মাত্র তিনটি। পার্লামেন্টে নিজ জোটের আসনসংখ্যা বাড়াতে তিনি আগাম নির্বাচন দেন। বর্তমানে তার জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে।

এর আগে ২০২২ সালের ১৩ই জুলাই গণ-বিক্ষোভের মুখে শ্রীলঙ্কায় রাজাপাকসা সরকারের পতন হয়। দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসা। ওই ঘটনার সপ্তাহখানেক পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। গণবিক্ষোভের দুই বছরের মাথায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে নিয়ম অনুসারে, নেপালে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে। কিন্তু, তা এগিয়ে আনতে হয়েছে। দরিদ্র দেশটির নব্য ক্ষমতাসীনদের বিলাসী জীবনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ‘জেন জি’ বা তরুণ প্রজন্মের নাগরিকরা রাজপথে নেমেছিল। একপর্যায়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ক্ষমতাসীন জোটের।

সেই সরকারের প্রতি সমর্থন ছিল নেপালি কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল)। কিন্তু, তরুণদের অনাস্থার কারণে তাদের ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। হয়তো তরুণদের বয়কটের কারণেই ভরাডুবিতে পড়তে হচ্ছে ওলির সিপিএন-ইউএমল জোটকে।



    শেয়ার করুন: