আগামীর সময়

সিরিয়ার শারার দিকে ‘মোড়লদের’ সুদৃষ্টি

সিরিয়ার শারার দিকে ‘মোড়লদের’ সুদৃষ্টি

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা


গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়ায় এখনো অস্ত্রের ঝনঝনানি। তবে দেশটিতে পরিস্থিতি দ্রুতই উন্নতি হচ্ছে। তারই নমুনা দেখা গেল সম্প্রতি। এ সময়ে দেশটি মার্কিন কোম্পানি ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি সম্পন্ন করেছে। যা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের প্রতি ওয়াশিংটন ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমর্থনের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার মার্কিন জ্বালানি জায়ান্ট শেভরন সিরিয়া সরকার ও কাতারি প্রতিষ্ঠান ইউসিসি হোল্ডিং-এর সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান করা হবে।

এই জ্বালানি চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো, যখন সৌদি আরব সিরিয়ায় আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। রয়টার্স মঙ্গলবার জানায়, সৌদি আরব একটি নতুন বেসরকারি সিরিয়ান এয়ারলাইন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে।

শারার সরকারের জন্য এসব অর্থনৈতিক চুক্তি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন জানুয়ারিতে পরিচালিত ব্যাপক সামরিক অভিযানের পর সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের বিরুদ্ধে অর্জিত সামরিক ও রাজনৈতিক সাফল্য আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের মিত্রদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ায় শারা ওয়াশিংটনে কিছু সমালোচনার মুখে পড়লেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, মার্কিন দূত টম ব্যারাক দামেস্কে অনুষ্ঠিত শেভরন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই চুক্তি সমুদ্রভিত্তিক জ্বালানি অনুসন্ধানের পথে সিরিয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

শেভরনের স্বীকৃতি


শেভরন ইতোমধ্যেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সক্রিয়। প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলের বিশাল লেভিয়াথান গ্যাস ক্ষেত্র পরিচালনা করে, যা দেশটিকে গ্যাস রপ্তানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সহায়তা করেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেভরন লিবিয়ার ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের সঙ্গে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা যাচাইয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। একই সঙ্গে গ্রিসও শেভরনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তুরস্কের সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিযোগিতায় জড়িত গ্রিস শেভরনের অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটনের সমর্থনের ‘সিলমোহর’ হিসেবে দেখে।




সিরিয়া পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেশটির জ্বালানি খাতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ইউসিসি হোল্ডিং কাতারের প্রভাবশালী খাইয়াত পরিবারের মালিকানাধীন এবং এটি বৃহত্তর পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং গ্রুপের অংশ। মে মাসে ইউসিসি তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর একটি কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দিয়ে সিরিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করতে ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি প্রকাশ করে।

এই চুক্তির আওতায় প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ, খনিশিল্প ও পেট্রোলিয়াম খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে প্রযুক্তিগত সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং যৌথ বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়।

এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো কিলিস–আলেপ্পো প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন, যা ২০২৫ সালের জুনে সম্পন্ন হয়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তুরস্ক প্রতি বছর সিরিয়াকে ২০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টেলিযোগাযোগ থেকে বিমানবন্দর

এদিকে সৌদি আরবও সিরিয়ায় বিনিয়োগ এগিয়ে নিচ্ছে। সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানায়, একটি বেসরকারি এয়ারলাইনের পাশাপাশি রিয়াদ ও দামেস্কের মধ্যে হওয়া চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিয়ার টেলিযোগাযোগ খাতে সৌদি বিনিয়োগ, একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প এবং আলেপ্পো বিমানবন্দরের পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনা।




সব মিলিয়ে এসব চুক্তি দেখায় যে, সিরিয়ার পুনর্গঠনে কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরব বড় ভূমিকা রাখছে—যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে।


সূত্র: মিডল ইস্ট আই

    শেয়ার করুন: