চেইনালাইসিসের প্রতিবেদন
ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে স্বল্পমূল্যের ড্রোন কিনছে ইরান-রাশিয়া

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো ক্রমেই স্বল্পমূল্যের সামরিক ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ কেনায় ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছে বলে ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইনালাইসিসের এক নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য ড্রোন এখন ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এসব স্বল্পমূল্যের ড্রোন বিশ্বজুড়ে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সহজে পাওয়া যাওয়ায়, কারা এগুলো কিনছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তা নির্ণয় করা কর্তৃপক্ষের জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ ড্রোন এখনো প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই কেনা হয়। তবে ক্রয় নেটওয়ার্কগুলো ধীরে ধীরে ব্লকচেইনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা একটি উন্মুক্ত ডিজিটাল লেজার, যার ওপর ক্রিপ্টোকারেন্সি নির্ভর করে। এই লেজারের মাধ্যমে তদন্তকারীরা লেনদেনের উৎস থেকে গন্তব্য পর্যন্ত পুরো পথ অনুসরণ করতে পারেন।
চেইনালাইসিসের গবেষকেরা ড্রোন নির্মাতা বা আধাসামরিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত পৃথক ওয়ালেট থেকে ক্রিপ্টো প্রবাহ অনুসরণ করে ই-কমার্স সাইটের বিক্রেতাদের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যের ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ কেনার তথ্য শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়া-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ক্রিপ্টো অনুদানের মাধ্যমে ৮.৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। ওই অর্থ দিয়ে নির্দিষ্টভাবে ড্রোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনা হয়েছে।
চেইনালাইসিসের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু ফিয়ারম্যানের মতে, ‘ব্লকচেইনে এমন এক বিশেষ সুবিধা রয়েছে—একবার বিক্রেতাকে শনাক্ত করা গেলে লেনদেনের অপর পক্ষের কার্যক্রম দেখা যায় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহার ও কেনাকাটার উদ্দেশ্য আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয়।’
তিনি জানান, দুই হাজার ২০০ থেকে সাড়ে তিন হাজার ডলারের মধ্যে ক্রিপ্টো লেনদেনকে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ড্রোন ও যন্ত্রাংশের নির্দিষ্ট মূল্যমানের সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা গেছে।
ফিয়ারম্যানের ভাষ্য, ‘আমরা ড্রোন ও যন্ত্রাংশের অনুরোধ থেকে শুরু করে কত পরিমাণ সংগ্রহ করতে চাওয়া হয়েছে—সবকিছুই দেখেছি, এমনকি পরে সেই পণ্য সংগ্রহের ছবিও পাওয়া গেছে।’
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো ব্যবহার করছে। এতে বিশেষভাবে একটি ক্রিপ্টো ওয়ালেটের উল্লেখ করা হয়েছে, যার সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সংযোগ রয়েছে, যা হংকংভিত্তিক এক সরবরাহকারীর কাছ থেকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ কিনেছে।
যদিও সামগ্রিক সামরিক ব্যয়ের তুলনায় ড্রোন সংগ্রহে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোর পরিমাণ এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তবুও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লকচেইন এমন অনেক ক্রয় কার্যক্রম অনুসরণে সহায়তা করতে পারে, যা অন্যথায় অস্পষ্টই থেকে যেত।
ফিয়ারম্যান উল্লেখ করেন, ‘ব্লকচেইন এমন অনেক তথ্যগত স্পষ্টতা দেয়, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে সবসময় পাওয়া যায় না।’

