পদত্যাগের চাপ সামলাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে উপদেষ্টার দায়িত্ব দিলেন স্টারমার

সংগৃহীত ছবি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধাক্কার পর নিজের অবস্থান শক্ত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ও লেবার পার্টির সাবেক উপনেতা হ্যারিয়েট হারম্যানকে উপদেষ্টার ভূমিকায় এনেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ব্রাউনকে প্রধানমন্ত্রীর বৈশ্বিক অর্থায়নবিষয়ক বিশেষ দূত করা হয়েছে। আর হারম্যান সরকারকে নারী ও কন্যাশিশুবিষয়ক নীতিতে পরামর্শ দেবেন। দুটি ভূমিকাই খণ্ডকালীন ও অবৈতনিক।
ইংল্যান্ডের কাউন্সিল নির্বাচন, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে লেবারের বিপর্যয়কর ফলের পর এই সিদ্ধান্ত এলো। ইংল্যান্ডে দলটি ১ হাজার ৪০০–এর বেশি কাউন্সিলর হারিয়েছে। ওয়েলসে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা হারিয়েছে লেবার। স্কটিশ পার্লামেন্টেও দলটির অবস্থান দুর্বল হয়েছে। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টি লেবারের ঐতিহ্যগত এলাকাগুলোতে সমর্থন বাড়িয়েছে।
স্টারমার বলেছেন, তিনি ভোটারদের কথা শুনবেন। তবে ‘বাম বা ডানে’ সরে যাওয়ার চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘কঠিন’ ফলের জবাব দিতে হলে লেবারকে ‘নিজেদের মূল্যবোধে দৃঢ়’ থাকতে হবে। ‘বিভাজন নয়, ঐক্য’ তৈরি করতে হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, চ্যান্সেলর ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্রাউন বৈশ্বিক অর্থায়ন অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবেন। এর লক্ষ্য হবে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিনিয়োগে সহায়তা করা, যার মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতাও থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, ‘তাকে এমন নতুন আন্তর্জাতিক অর্থায়ন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হবে, যা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসম্পর্কিত বিনিয়োগে সহায়তা করতে পারে। যার মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ব্যবস্থাও থাকবে।’
আগামী বছর যুক্তরাজ্য জি২০-এর সভাপতিত্ব করবে। তার আগে ব্রাউনের এই নিয়োগ হলো।
হারম্যান মন্ত্রীদের সঙ্গে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো এবং পার্লামেন্ট ও জনজীবনে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বলেছে, তিনি সিভিল সার্ভিসের প্রধানের সঙ্গেও কাজ করবেন। যাতে সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়গুলোর সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা যায়।
ব্রাউন ও হারম্যান ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের সঙ্গে দেখা করার পর তাদের নিয়োগ ঘোষণা করা হয়।
লেবারের প্রবীণ দুই নেতাকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেছেন, ‘এটি পুরোপুরি ভবিষ্যৎমুখী। কারণ এটি নিশ্চিত করার বিষয় যে প্রত্যেক নারী তার প্রাপ্য সুযোগ পান। তাই হ্যারিয়েট এই কাজের নেতৃত্ব দেবেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘গর্ডনের ক্ষেত্রে স্পষ্টতই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো বৈশ্বিক অর্থায়ন। ইরান যুদ্ধ বাস্তব সমস্যা তৈরি করছে, অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় আমাদের আরও ব্যয় দরকার। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তা একসঙ্গে আনতে হবে। আর গর্ডনের এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে। তাই এটি ভবিষ্যতের শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ার অংশ।’
স্টারমারের পদত্যাগের চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে দলটি ৩৭টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ এবং ১ হাজার ৩০০ কাউন্সিলর হারানোর পর অন্তত ৩০ জন লেবার এমপি তার পদত্যাগ দাবি করেছেন ৷
আগামীকাল সোমবার এক ভাষণের মাধ্যমে নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করবেন স্টারমার। ওই ভাষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আহ্বান থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




