জাপানে কেন বাড়ছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

সাম্প্রতিক এক ভিডিও পোস্টে ট্রাম্প নিজেকে জনপ্রিয় অ্যানিমে চরিত্র নারুটোর বেশে দেখিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
জাপানে বাড়ছে ক্ষোভ। যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জনপ্রিয় অ্যানিমে ও মাঙ্গা চরিত্র ব্যবহার করায় দেখা দিয়েছে এই প্রতিক্রিয়া।
অনেক ভক্ত ও অধিকারকর্মীর অভিযোগ, এসব চরিত্রের মূল্যবোধের সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তার মিল নেই। পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এভাবে চরিত্রগুলো ব্যবহার করা স্রষ্টাদের অধিকারও লঙ্ঘন করতে পারে।
গত মার্চ থেকে শুরু হয় এ অসন্তোষ। সে সময় ট্রাম্পের বিভিন্ন পোস্টে জনপ্রিয় অ্যানিমে ও মাঙ্গা চরিত্র যেমন নারুটো উজুমাকি, পিকাচু ও ইয়ুগি মুটোর ছবি ব্যবহার করা হয়। একটি পোস্টে ট্রাম্পকে দেখানো হয়েছিল নারুটোর রূপেও।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া একটি অনলাইন আবেদনে এখন পর্যন্ত সই করেছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসকে জাপানি মাঙ্গা সংস্কৃতি এবং এর স্রষ্টাদের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে আবেদনে।
মার্চে হোয়াইট হাউসের সরকারি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক হামলার ভিডিওর সঙ্গে ইয়ু-গি-ওহ! এবং ড্রাগন বেলের দৃশ্য জুড়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এর আগের দিন ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ স্লোগানসহ একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছিল। যা জনপ্রিয় ভিডিও গেম পকিমন পকিয়া থেকে নেওয়া বলে মনে করা হয়।
বিতর্ক নতুন করে তীব্র হয় গত শনিবার। তখন ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেন তার একটি ভিডিও। সেখানে জনপ্রিয় অ্যানিমে সিরিজের প্রধান চরিত্র নারুটো উজুমাকির রূপে দেখানো হয় তাকে।
আবেদনে সইকারীরা বলছেন, এসব চরিত্র বিশ্বজুড়ে সাহস, বন্ধুত্ব ও অধ্যবসায়ের বার্তা বহন করে। রাজনৈতিক প্রচারণায় সেগুলো ব্যবহার করা তাদের স্রষ্টাদের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
জাপানের কানাগাওয়া অঞ্চলের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী নানা সুজুকি এ আবেদন শুরু করেন। নিজেকে অ্যানিমে ও মাঙ্গার বড় ভক্ত হিসেবে পরিচয় দেওয়া সুজুকি বলেছেন, বিষয়টি তাকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
তার ভাষ্য, ‘কাজুকি টাকাহাশি সমুদ্রে কাউকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। অন্যকে বাঁচানোর জন্য জীবন দেওয়া একজন মানুষের সৃষ্টিকর্ম ও তার বার্তাকে সামরিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, তিনি এখন আর নিজের অবস্থান জানানোর জন্য বেঁচে নেই।’
সুজুকি আরও বলেছেন, যারা একই ধরনের হতাশা অনুভব করেন, তাদের মত প্রকাশের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। পাশাপাশি জাপানি স্রষ্টা ও তাদের কাজের প্রতি সম্মান দেখানোর পক্ষে কত মানুষ রয়েছেন, সেটিও তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।
তবে সবাই এ সমালোচনার সঙ্গে একমত নন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে কয়েকজন ব্যবহারকারী ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে মজার বলে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, এতে নারুটোর আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়বে।
আরেকজনের মন্তব্য, সমালোচনা করার বদলে আমি গর্বিত যে জাপানি মাঙ্গা এতটাই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও নারুটোকে চেনেন।
এদিকে পকিমন কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তাদের কোনো অনুমতি নেয়নি হোয়াইট হাউস। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র শ্রাবন্থি দেব বলেছেন, ‘ছবিটি তৈরির বা প্রচারের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আমাদের লক্ষ্য মানুষকে একত্রিত করা। এ লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।’
সূত্র: বিবিসি






