চীনের ‘জাতিগত ঐক্য আইন’ নিয়ে উদ্বেগ ইইউ’র

এই আইন বেইজিংকে দেশের সীমানার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ভিত্তি দিচ্ছে বলে মনে করছে জোটটি- রয়টার্স
চীনের নতুন ‘জাতিগত ঐক্য আইন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চলতি সপ্তাহে কার্যকর হওয়া এই আইন বেইজিংকে দেশের সীমানার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ভিত্তি দিচ্ছে বলে মনে করছে জোটটি।
চীন গত মার্চে আইনটি পাস করে। এর উদ্দেশ্য দেশের ৫৫টি জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি ‘অভিন্ন’ জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা। এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিব্বতি ও উইঘুররাও রয়েছে। তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে চীনা শাসনের বিরোধিতা করে আসছে এবং বছরের পর বছর বিভিন্ন বিক্ষোভ করেছে, যার কিছু ছিল সহিংস।
বুধবার কার্যকর হওয়া নতুন আইনে একটি ধারা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সীমানার বাইরে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি’ ক্ষুণ্ন করলে অথবা ‘জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদে উসকানি’ দিলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা যাবে।
এক বিবৃতিতে ইইউর একজন মুখপাত্র বলেছেন, নতুন এই আইন জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় অধিকার আরও সীমিত করতে পারে।
তিনি বললেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং জাতিসংঘের কাঠামোর আওতায় চীনের অঙ্গীকার অনুযায়ী এসব অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে।
মুখপাত্রের ভাষায়, ‘আইনটির দেশের সীমানার বাইরে প্রয়োগ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কোনো তৃতীয় দেশের আইনের বহির্দেশীয় প্রয়োগের বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।’
তিনি আরও বললেন, ‘আমরা সব তৃতীয় দেশকে আহ্বান জানাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে বা অন্য কোথাও সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়ন চালানোর চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে।’
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত সপ্তাহে চীনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, দেশের সীমানার বাইরে থাকা কেউ আইন লঙ্ঘন করলে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার অধিকার সরকারের রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আইনগতভাবে বৈধ ও প্রয়োজনীয়।
এর আগে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছিল, রাজনৈতিক অভিযোগে বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করাতে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিস’ ব্যবস্থার অপব্যবহার করার চেষ্টা করেছে চীন।
আইনটি, বিশেষ করে চীনের দাবি করা তাইওয়ানেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সেখানে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেইজিং এই আইনকে নতুন আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
বৃহস্পতিবার পৃথক এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডবিষয়ক পরিষদ (মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল) জানায়, সরকার সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে ‘চীনা কমিউনিস্টদের হুমকি’ মোকাবিলা করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়নের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও জবরদস্তি প্রদর্শনের শামিল।’
তাইওয়ান সরকার বরাবরই বলে আসছে, চীনের আইনব্যবস্থার তাইওয়ানের ওপর কোনো এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব নেই এবং তারা বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।




