নিজ কার্যালয়ে যেভাবে মারা গেলেন খামেনি!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও ফার্স নিউজ এজেন্সি পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে তেহরানে নিজের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। হামলার সময় খামেনি অফিসে কাজ করছিলেন।
ফোর্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির ভেরিফাই টিম স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তেহরানে অবস্থিত ‘লিডারশিপ হাউস’ কমপ্লেক্সের কিছু অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই কমপ্লেক্সটিই ছিল খামেনির কার্যালয় ও আবাসিক এলাকা।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। এমন খবর ছিল ‘শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ’। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং এর ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার রাতেই খামেনির নিহত হওয়ার দাবি করেন। একই দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি নিহত।’
ইসরায়েলের দাবি, খামেনি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয় এবং হামলায় তেহরানে তার প্রাসাদসদৃশ কমপ্লেক্স পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে, পরে যুক্তরাষ্ট্রও এতে সহায়তা করে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। যৌথ বাহিনীর হামলায় তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। তারা ইসরায়েলের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই ও আবুধাবিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এমনকি বুর্জ খলিফা সাময়িকভাবে খালি করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। কাতার ও সৌদি আরবেও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি উঠেছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

