অভিবাসন ইস্যুতে ইউরোপকে ‘ধুয়ে দিলেন’ হেগসেথ

ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে দাঁড়িয়ে ইউরোপের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ইউরোপে অভিবাসীদের এই ঢলকে তিনি ‘আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
নাৎসি অধিকৃত উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ মুক্ত করতে মিত্রবাহিনীর নরম্যান্ডি অভিযানের (ডি-ডে) ৮২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে এই সমালোচনা করেন তিনি।
অভিবাসী প্রসঙ্গে পিট হেগসেথ বলেছেন, দুঃখজনকভাবে, আজ ইউরোপের বিভিন্ন সমুদ্র সৈকত নানা ধরনের বিপজ্জনক মতাদর্শের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার উপকূলের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ‘নৌকায় করে মানুষ আসছে। ইউরোপের দেশগুলো কবে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে?’
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে অভিবাসন। জনপ্রিয়তাও বেড়েছে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর।
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন। গত বছর সাউদাম্পটনে ১৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ শিক্ষার্থী হেনরি নওয়াকের হত্যার ঘটনায় ‘অভিবাসীদের ব্যাপক আগমনকে’ দায়ী করেন।
ভ্যান্সের ওই মন্তব্যের সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট উল্লেখ করে, ‘কেউ আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে।’ অন্যদিকে হেনরি হত্যার ঘটনায় ঘাতক ভিকরাম ডিগওয়া জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক বলে নিশ্চিত করে যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস।
নরম্যান্ডির ভাষণে হেগসেথ আরও মন্তব্য করেন, ডি-ডের পরবর্তী সময়ে ইউরোপের কিছু দেশ বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা নিয়ে অতিরিক্ত ‘আরামদায়ক’ হয়ে উঠেছে। তারা ভুলে গেছে ‘স্বাধীনতারও মূল্য আছে’।
‘যারা এখানে (নরম্যান্ডিতে) যুদ্ধ করেছে এবং প্রাণ দিয়েছে, তারা ইউরোপকে স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিল। বর্তমান প্রজন্মের নেতা ও যোদ্ধাদের সেই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় তারা যা অর্জন করেছিল, তা কেবল সাময়িক হয়ে থাকবে’, যোগ করেন হেগসেথ।
ডি-ডে ছিল সমুদ্রপথে পরিচালিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। এতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার হাজার হাজার সেনা ফ্রান্সের নরম্যান্ডির পাঁচটি পৃথক সৈকতে একযোগে অবতরণ করেন। নাৎসি অধিকৃত উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ মুক্ত করতে চালানো হয়েছিল এই অভিযান।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে এসেছিলেন ১০ লাখের বেশি অভিবাসী। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, গ্রিস, ইতালি, স্পেন ও সাইপ্রাসে সমুদ্রপথে আসেন মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪১ জন অভিবাসী।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে ৯ হাজার ১৪২ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৮ শতাংশ কম।




