স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের লড়াই
কী বলছে ব্রিটিশ লেবার পার্টির বিধান?

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, শুধু অনাস্থা ভোটে অপসারণ করা যায় না দলীয় নেতাকে। ফলে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে হলে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে নির্দিষ্টসংখ্যক এমপিকে জানাতে হবে প্রকাশ্যে সমর্থন।
লেবার পার্টির গঠনতন্ত্রে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা ভোটের নেই কোনো বিধান। ২০১৬ সালে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল, যখন দলটির এমপিরা তৎকালীন নেতা জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট দিলেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এতে বোঝা যায়, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে অনাস্থা ভোট, কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরানোর সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই।
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের অন্তত ২০ শতাংশকে একজন বিকল্প প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে হবে, তবেই শুরু হতে পারে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া। বর্তমানে পার্লামেন্টে লেবার পার্টির সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী, এর জন্য অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন।
কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগ করতে অথবা অন্তত সরে দাঁড়ানোর একটি সময়সূচি ঘোষণা করতে আহ্বান জানিয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি লেবার এমপি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখনো স্টারমারের বিকল্প হিসেবে কাকে চান তারা, এ বিষয়ে একমত হতে পারেননি। ফলে তাৎক্ষণিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা রয়ে গেছে অনিশ্চিত।
দলের একাংশ চায়, পরিকল্পিতভাবে সরে দাঁড়ান স্টারমার। তাদের ধারণা, এতে পার্লামেন্টে ফিরে এসে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের। বর্তমানে সংসদ সদস্য নন তিনি। ফলে নেতৃত্বের দৌড়ে নামতে হলে আগে একটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে ফিরতে হবে তাকে।
অন্যদিকে, স্টারমারের দ্রুত বিদায়ের পক্ষে যারা, স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিং অথবা উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে সমর্থন করছেন তারা। তাদের সমর্থকদের ধারণা, দ্রুত নেতৃত্ব নির্বাচন হলে সংসদে ফেরার মতো সময় পাবেন না অ্যান্ডি বার্নহাম, ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারবেন না তিনি।
এখন পর্যন্ত স্টারমারের সম্ভাব্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশ্যে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাননি। ফলে শেষ পর্যন্ত লেবার পার্টির ভেতরের অসন্তোষ কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে একত্রিত হতে পারে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা।




